আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতে এলপিজি সঙ্কট দূর হচ্ছেই না‌। এলপিজি সঙ্কটের জেরে চড়চড়িয়ে বাড়ছে গ্যাসের দাম। যা জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্তরা। এই পরিস্থিতিতেও নিশ্চিন্তে রয়েছেন এক যুবক। এলপিজি ছাড়াই নিত্যদিন নানা পদের রান্না করছেন তিনি। কম সময়েই বাড়ির সকলের জন্য বানিয়ে ফেলছেন নানা পদ। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে? 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই উনুনের নাম হল বিশ্বগুরু চুলা। থ্রি-ইন-ওয়ান স্টোভ। যেখানে একসঙ্গে খাবার ফোটানো, ভাজা, এমনকী বেক করাও সম্ভব। মাত্র ২৫ মিনিটেই ৩০ জনের খাবার তৈরি করা যায়। 

 

রাজস্থানের উদয়পুরের বাসিন্দা মহম্মদ শের খান। তিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার নন। কিন্তু কম খরচে, কম পরিশ্রমে কীভাবে নিত্যদিন রান্না করা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষানিরীক্ষার পর এই স্টোভ তিনি নিজেই বানিয়েছেন। এতে গ্যাস লাগে না। কাঠের খরচ কম হয়। ধোঁয়াও কম নির্গত হয়। গত ২৭ বছর ধরে এই স্টোভেই রান্না করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

">
 

 

শের খান জানিয়েছেন, বিশ্বগুরু চুলায় তিনটি ভাগ রয়েছে। যেখানে তিনটি ভাগেই একসঙ্গে তিন ধরনের রান্না করা সম্ভব। উপরের ভাগে রুটি, পিৎজা, স্যান্ডউইচের মতো জিনিস বানানো যাবে। মাঝের তলায় সবজি, মাংস পোড়ানো বা গ্রিল করা যাবে। নীচের ভাগে, মাংসের ঝোল, ডাল, স্যুপ, সবজির তরকারি বানানো যাবে। 

 

এই স্টোভেই একসঙ্গে তিন ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমে এবং কম খরচেই চটজলদি খাবার তৈরি হয়ে যায়। এই স্টোভে মাত্র ২ কেজি কাঠের প্রয়োজন হয়। যেখানে সাধারণ স্টোভ জ্বালানোর জন্য ১০ কেজি কাঠ খরচ হয়। কম ধোঁয়াও নির্গত হয়। 

 

শের খান আরও জানিয়েছেন, বিশ্বগুরু চুলায় রাজস্থানি খাবার থেকে ভারতীয় নানা পদ, এমনকী পিৎজা, স্যুপের মতো খাবারও চটজলদি তৈরি করা যায়। ২৭ বছর পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন। ২০১৭ সালে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছোটখাটো হোটেল, রেস্তোরাঁ, ধাবা, এমনকী বহু বাড়িতেও এই স্টোভ বিক্রি করেছেন। 

 

এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার বিশ্বগুরু চুলা বিক্রি করেছেন তিনি। এই স্টোভের দাম ১০ হাজার টাকা। রান্নার সময় স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হয় না। কম পরিশ্রমে দ্রুত খাবার তৈরি করা যায়। এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতাও কমে বলে জানিয়েছেন শের খান।