আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাত পাকেনি চালকের, শিখছিলেন সবে। আর সেই আনাড়ি হাতের স্টিয়ারিংই কেড়ে নিল দুই মহিলার প্রাণ। শুক্রবার দুপুরে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নান্দোর-নভাপাড়া রোডে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম লতা নীলেশ তারে (৪৫) এবং বেবি চন্দ্রকান্ত যাদব (৬৫)। বাজার সেরে তাঁরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে ফিরছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাস্তার ঠিক পাশ দিয়ে হাঁটা সত্ত্বেও আচমকা একটি দ্রুতগতির পিক-আপ ভ্যান উল্টোদিক থেকে এসে তাঁদের সরাসরি ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই প্রৌঢ়ার।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়ির চালক বছর চব্বিশের এক যুবক। তিনি ওই সময় গাড়ি চালানো শিখছিলেন। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় গাড়িটি বাঁ দিক ছেড়ে সোজা ডান দিকে থাকা পথচারীদের ওপর উঠে যায়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া। পুরো দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

অন্যদিকে, ভয়াবহ আরেক দুর্ঘটনা৷ টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে ছিল গাড়ি। আচমকা পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারল একটি বেপরোয়া ট্রাক। শনিবার দুপুরে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে কানপুর হাইওয়ের ওপর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক টোল কর্মী-সহ বেশ কয়েক জন যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। মঠ থানা এলাকার সেমরি টোল প্লাজার এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিউরে উঠছেন সকলে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় টোল প্লাজায় দুটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। ফাসট্যাগ স্ক্যানারে সমস্যা হওয়ায় ৫৬ বছর বয়সি কর্মী রমাকান্ত রিছারিয়া গাড়ি দুটির কাছে এগিয়ে গিয়েছিলেন। এমন সময়ে পিছন থেকে ধেয়ে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি দুটিতে ধাক্কা মারে। ধাক্কার চোটে রমাকান্তবাবু কার্যত শূন্যে ছিটকে গিয়ে একটি গাড়ির সামনের অংশের ওপর পড়েন। এখানেই শেষ নয়, ঘাতক ট্রাকটি গাড়ি দুটি এবং ওই কর্মীকে প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মঠ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ 

আবার, গত মাসেও ঘন কুয়াশার জেরে আরেকটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সকালে ঘন কুয়াশার জেরে দিল্লি-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে অন্তত সাতটি বাস, তিনটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। সজোরে ধাক্কার পরেই গাড়িগুলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভোর ৪:৩০ মিনিটে মথুরার বলদেব এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ৩৫ জন আহত হয়েছিলেন। 

এর আগে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ধোঁয়াশার জেরে পরপর কুড়িটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উল্টে যায় একাধিক ট্রাক। এর ফলে দুই পুলিশকর্মী-সহ চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েছিলেন ২০ জন। কুয়াশা ও ধোঁয়াশার জেরে পরপর কয়েকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।