আজকাল ওয়েবডেস্ক: যাত্রায় গিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই সর্বনাশ। বাড়ির অদূরেই একাধিক আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণ। নির্যাতিতাদের মুখে বর্ণনা শুনেই শিউরে উঠেছে পুলিশ। এখনও অধরা অভিযুক্তরা। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডে। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গিরিডিহ জেলায় দুই আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার মধ্যরাতে গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, সেদিন গ্রামের কিছু পরিচিতদের সঙ্গে বাড়ির অদূরে এক যাত্রাপালায় গিয়েছিল দুই আদিবাসী নাবালিকা। মধ্যরাতে পরিচিতদের থেকে আচমকাই দূরে চলে গিয়েছিল তারা। কাউকে খুঁজে না পেয়ে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। 

নির্জন এলাকায় পৌঁছতেই পাঁচ থেকে ছ'জন যুবক দুই নাবালিকাকে ঘিরে ধরে। এরপর নাবালিকাদের সঙ্গে থাকা যুবককে মারধর করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন। মধ্যরাতে তাঁরাই দুই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মহিলা পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই দুই নাবালিকার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশের একটি টিম। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চলছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এবং পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত জারি রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। প্রসাদের লোভ দেখিয়ে পরপর দুই নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বিরুদ্ধে। মন্দিরের গর্ভগৃহে দুই নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছিল। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্ত পুরোহিত মহাকাল আশ্রমের একটি শিব মন্দিরে পুজো করতেন। জানা গেছে, গত চার বছর ধরে এই মন্দিরের দেখাশোনা করতেন তিনি। আশ্রমটি এখনও নির্মীয়মাণ। সেই মন্দিরের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল। 

তদন্তে জানা গেছে, দুই নাবালিকা সম্পর্কে তুতো বোন। একজনের বয়স ছয়, অন্যজনের পাঁচ। পরিবারের তরফে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে দুই বোন উঠোনে খেলাধুলা করছিল। সেই সময়ে অভিযুক্ত পুরোহিত প্রসাদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মন্দিরে ডেকে নিয়ে যান। পুজোর প্রসাদ খাওয়ার লোভে দুই বোন একসঙ্গে পুরোহিতের সঙ্গেই চলে যায়। 

এরপর মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দুই বোনকে একসঙ্গে যৌন হেনস্থা করেন। ধর্ষণ করেন একে একে। রাতেই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে পুরোহিতের কীর্তি ফাঁস করে দুই বোন। পরেরদিন সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পকসো ধারায় পুরোহিতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা জানিয়েছিলেন, এ নিয়ে তৃতীয়বার যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল এই পুরোহিতের বিরুদ্ধে। আগের দু'বার থানায় অভিযোগ জানানো হয়নি।