আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের দিন সকালেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড। ভোররাতে একসঙ্গে মৃত্যু দুই বোনের। সেদিনই একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তাঁর। এক দিনেই দুই বোনের বিবাহবন্ধন আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার কিছুক্ষণ আগেই মর্মান্তিক পরিণতি হল তাঁদের। যে ঘটনায় গোটা গ্রাম জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের যোধপুরে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, একই দিনে সাত পাকে বাঁধা পড়ার কথা ছিল দুই বোনের। বিয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই একসঙ্গে আত্মঘাতী হয়েছেন দুই বোন। মৃতেরা হলেন, শোভা (২৫) এবং বিমলা (২৩)। দীপক সিংয়ের দুই মেয়ে তাঁরা। দুই বোন পেশায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন দুই বোন। দেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। শনিবার সকালে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
দুই বোনের একসঙ্গে শেষকৃত্যের আয়োজন করছিল পরিবার। ঠিক সেই সময়েই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছয়। শেষকৃত্যের আয়োজন থামিয়ে দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় তারা। ময়নাতদন্তের পর দেহ দু'টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পোখরানের জেমলা গ্রামের দু’জনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল তাঁদের। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ছিল বিয়ে। শুক্রবার বিয়ের আচার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। সেই রাতে একসঙ্গে ঘুমাতে গিয়েছিলেন দুই বোন। ভোররাতে তাঁদের গোঙানির শব্দে সকলের ঘুম ভেঙে যায়।
শোভা ও বিমলার মামা যশবন্ত সিং অভিযোগ জানিয়েছেন, দীপক সিংয়ের ভাই লাগাতার বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। দুই বোনের একসঙ্গে বিয়ের দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতেন তিনি। বিয়ের জন্য জোরাজুরি করতেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন দুই বোন। তাঁর অভিযোগটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
যশবন্তের আরও অভিযোগ, অতীতে জালোরের ভিনমালের দু’জনের সঙ্গে ভাগ্নিদের বিয়ের ঠিক হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের চাপে সেই বিয়ে ভেস্তে যায়। পরে পোখরানের জেমলা গ্রামে তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু দুই বোন এই বিয়ে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। দুই তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
