আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির ভারত মণ্ডপমে শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদ দেখান যুব কংগ্রসের একঝাঁক তরতাজা যুবক। এআই সামিট নিয়ে একগুচ্ছ বিতর্কের পর, নয়া সংযোজন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। হাত শিবিরের যুব নেতা-কর্মীদের এহেন আচরণ আদতে দেশের মাথা হেঁট করানো, তেমনটাই মত সপা প্রধান অখিলেশের। কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের বাবুল সুপ্রিয়।

বাবুল সুপ্রিয় ঘটনা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন। তাতে স্পষ্ট বাবুলের বক্তব্য এবং অবস্থান। তিনি লিখেছেন, 'এআই শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের শার্টবিহীন প্রতিবাদ দুর্বল বিচারবুদ্ধিরই প্রতিফলন ঘটায়। আন্তর্জাতিক নেতা এবং বিশ্বের নানা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে এই ধরনের আচরণ আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার সম্পর্কে ভুল বার্তা পাঠায়।গণতন্ত্র প্রতিবাদ করার অধিকার নিশ্চিত করে কিন্তু দায়িত্বও দাবি করে।'

বাবুলের বক্তব্য, বিশ্বের সামনে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার সময়,দলের অবস্থানকে সেভাবেই তুলে ধরতে হবে। তিনি লিখেছেন, 'রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে লড়াই করা যেতে পারে কিন্তু জাতির সম্মান ও মর্যাদার বিনিময়ে কখনও নয়।'

?s=48

অন্যদিকে আরও কড়া বার্তা সপা নেতার। ঝাঁসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অখিলেশ সাফ জানান, এই ধরনের কর্মকাণ্ড মূলত দেশের জন্য 'লজ্জা'র। তিনি বলেছেন, 'আমাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, পুরো জাতি জানে যে বিজেপি মিথ্যা কথা বলে। কিন্তু, তাদের এমন কিছু করা উচিৎ হয়নি, যা বিদেশী প্রতিনিধি এবং বিশ্ব প্রতিনিধিদের সামনে আমাদের দেশের জন্য লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়ায়।' 

ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির প্রধান এবং অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই. এস. জগন মোহন রেড্ডিও এক্স-এ পোস্ট করেছেন, রাজনৈতিক পার্থক্য সত্ত্বেও বিশ্বের কাছে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, 'এআই শীর্ষ সম্মেলনে, যুব কংগ্রেস আমাদের সকলকে লজ্জিত করেছে। আমাদের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে! কারও কখনও আমাদের দেশকে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয়। আমাদের রাজনৈতিক পার্থক্য যাই হোক না কেন, আমাদের সবসময় বিশ্বের কাছে ঐক্যবদ্ধ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করা উচিৎ।' 

 

ঠিক কী ঘটেছে? অভিযোগ, সামিটে ঢুকে তাঁরা জামা খুলে খালি গায়ে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।  অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কিউআর-কোডযুক্ত পাস ব্যবহার করে অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে প্রবেশ করেন। পরে আচমকা প্রতিবাদ শুরু করেন। আগেই, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেন।