আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিন দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পাওয়া যায়নি সাড়া। শুনশান বাড়ি। অবশেষে হাজির পুলিশ। বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই সকলে চমকে উঠলেন। এক ঘর থেকে উদ্ধার গোটা পরিবারের নিথর দেহ। সাতসকালে এহেন ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, এক বাড়ি থেকে পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খুন ও আত্মহত্যার ঘটনা বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃতেরা হলেন, ৫০ বছরের সত্যবীর, তাঁর স্ত্রী রামস্ত্রী এবং তাঁদের তিন নাবালক সন্তান। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর আত্মঘাতী হন সত্যবীর। গত দু'-তিন কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না ওই পরিবারের। এদিন ভোরবেলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘরের দরজা ভেঙে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেছে তারা। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, বিছানার ওপর কম্বলের নীচে ছিল চারজনের দেহ। সেই ঘরেই সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল প্রৌঢ়ের দেহ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক টিম ও ডি স্কোয়াড পৌঁছেছে। দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর্থিক অনটনেই চরম পদক্ষেপ করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। 

 

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃতদেহ। এক দম্পতি ও তাদের তিন খুদে সন্তানের নিথর দেহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। দিল্লির সেই বুরারিকাণ্ডের ছায়া খাস নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাটের আহমেদাবাদের বাগোদারায়। পুলিশ জানিয়েছিল, মৃতেরা হলেন বিপুল ভাগেলা ও সোনাল ভাগেলা এবং তাঁদের ১১ ও পাঁচ বছরের দুই কন্যাসন্তান ও আট বছরের এক পুত্রসন্তান। রবিবার সকালে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

 

এদিন সকালে প্রতিবেশীরাই পুলিশে প্রথম খবর দেন‌। ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী, অ্যাম্বুল্যান্স। দুটি ঘর থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পাঁচজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তানকে খুন করে দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছিল। 

 

এদিকে মৃত দম্পতির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁরা আদতে ঢোলকার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে বাগোদারায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিপুল পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। পরিবারে তিনি একাই উপার্জন করতেন। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতেন। আর্থিক অনটনের কারণেই হয়তো চরম পদক্ষেপ করেছেন। 

 

পরিবারের তরফে আরও জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বিপুল ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন।‌ সেটির ধাঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। একদিকে সংসারের চাপ, অন্যদিকে ঋণের বোঝা। সবমিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তিন সন্তানকে বড় করে তোলার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। ঋণের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান পরিবারের।