আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরের আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে ওঠা দায়। ভেঙে গেল সর্বকালের সব রেকর্ড। উপত্যকার তাপমাত্রা আজ ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ায় আবহাওয়া দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ। শ্রীনগরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ ডিগ্রিরও বেশি ছিল, যা কাশ্মীরের ইতিহাসে উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি হিসেবে নথিভুক্ত হল।

এর আগে ১৯৪০ এবং ২০১৬ সালে পারদ ২০ ডিগ্রির ঘর ছুঁয়েছিল। কিন্তু আজ সেই সমস্ত পুরনো রেকর্ড ধূলিসাৎ হয়ে গেল। শ্রীনগর তো বটেই, এমনকী গুলমার্গের মতো শৈলশহরগুলিতেও এখন কার্যত অকাল বসন্তের মেজাজ।

পরিসংখ্যান বলছে, বছরের এই সময়ে গুলমার্গের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকার কথা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন মাইনাস ৬ ডিগ্রি। সেখানে আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ১১.৫ ডিগ্রিতে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিনে গরম আরও বাড়তে পারে।

আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা মুখতার আহমেদ জানিয়েছেন, “কাশ্মীরের নথিভুক্ত ইতিহাসে এটিই উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও এক-দুই ডিগ্রি বাড়তে পারে।” তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। গোটা ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই উপত্যকা নজিরবিহীনভাবে শুষ্ক। উল্লেখ করার মতো তুষারপাতও দেখা যায়নি এ বার।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ফয়জান আরিফ পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “কাশ্মীরে এখন যে আবহাওয়া চলছে, তা সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেখা যায়। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারিতেই এ বার এপ্রিলের গরম মালুম হচ্ছে।”

ভরা শীতে এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রার বৃদ্ধিতে প্রমাদ গুনছেন পরিবেশবিদ ও কৃষকরা। যেখানে ফেব্রুয়ারি মাসে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর বরফের চাদরে ঢাকা থাকার কথা উপত্যকার, সেখানে শীতের এই অনুপস্থিতি বড়সড় পরিবেশগত সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।