আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা৷ উন্মত্ত অবস্থায় রীতিমতো উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠল দুই যুবতীর বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে একটি চলন্ত ক্যাবে সজোরে ধাক্কা মারে ওই দুই যুবতীর বাইক। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং পুলিশি সূত্র অনুযায়ী, ওই রাতে বন্ধুদের বাড়ি থেকে ফেরার পথে আহমেদ নামে এক চালকের গাড়িতে পিছন থেকে ধাক্কা মারেন যুবতীরা। চালক এর প্রতিবাদ করতেই শুরু হয় তুমুল বচসা। অভিযোগ, এর পরেই মেজাজ হারিয়ে চালককে লক্ষ্য করে অকথ্য গালিগালাজ শুরু করেন তাঁরা। এমনকী নিজেদের হেলমেট দিয়েও চালককে মারধর করেন অভিযুক্ত দুই মহিলা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও চড়াও হন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাতের কব্জিতে লোহার চেন পেঁচিয়ে ক্যাব চালককে আক্রমণ করেন তাঁরা। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, উত্তেজিত জনতাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছেন অভিযুক্তরা। পুলিশের গাড়িতে তোলার সময়ও থামেনি তাঁদের দাপট। লিসা এবং ম্যাথু নামে ওই দুই যুবতীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্য দিকে, পূর্ব বেঙ্গালুরুতে পোশাক নিয়ে বিবাদের জেরে এক মহিলা হোমগার্ডকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক মহিলার বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেআর পুরম রেল স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলা দামিনী ওরফে মোহিনীর পোশাক নিয়ে কিছু যুবক কটূক্তি করছিল। সেই সময় কর্তব্যরত হোমগার্ড লক্ষ্মী নরসাম্মা ওই যুবকদের তাড়িয়ে দেন। কিন্তু অভিযোগ, এর পরেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে খোদ ওই হোমগার্ডের ওপর চড়াও হন দামিনী। জখম পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পথেই গ্রেপ্রার 'নতুন' বর। সদ্য বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হল। নতুন বৌকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার পথেই পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন অক্ষয় কদম। মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলা থেকে শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ডিসেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের একটি হোটেলে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে অক্ষয়ের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯ ডিসেম্বর বিজেপি নেতা দিবাকর সিংয়ের মালিকানাধীন একটি হোটেলে চড়াও হয় অক্ষয় ও তার দলবল। হোটেলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি কর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের সঙ্গেও অভিযুক্তরা চরম দুর্ব্যবহার করে। এর পরেই অক্ষয়-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তল্লাশি শুরু হয়। অন্য সঙ্গীরা ধরা পড়লেও অক্ষয় এতদিন বেপাত্তা ছিলেন। তাঁকে ধরার বিনিময়ে ২৫ হাজার টাকার নগদ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পুলিশ।
পুলিশ সুপার রাজেশ দ্বিবেদী জানিয়েছেন, অক্ষয় যে মহারাষ্ট্রে লুকিয়ে আছেন, সেই খবর তাঁদের কাছে আগে থেকেই ছিল। সেই মতো উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি দল ওখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার অক্ষয়ের বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ওই বিয়ের আসরে হানা দিলেও সে যাত্রায় পালিয়ে বাঁচেন অক্ষয়।
অবশেষে শনিবার সকালে যখন অক্ষয় তাঁর নববধূর হাত ধরে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে শাহজাহানপুরে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
