আজকাল ওয়েবডেস্ক: ত্রিপুরায় হাড়হিম কাণ্ড। প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ের ঠিক হয়েছে। সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করে প্রেমিক৷ গোমতী জেলায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, এক ২৬ বছর বয়সি যুবক প্রথমে তাঁর প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করে, এরপর সেই একই অস্ত্র দিয়ে নিজেকে গুলি করে আত্মঘাতী হয়। পুলিশ বৃহস্পতিবার এই খবরটি জানিয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবক-যুবতী দু'জনেরই পরিবার তাঁদের বিয়ে অন্য জায়গায় ঠিক করে ফেলেছিল। সম্ভবত এই কারণেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন দু'জন। উদয়পুর মহকুমা পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) দেবাঞ্জলি রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গুলি লাগা অবস্থায় দু'জনের মৃতদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য আগরতলায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে এসডিপিও জানান, "বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ হোলাশেট এলাকায় গুলি চলার খবর পাই। ঘটনাস্থলে পুলিশ দল গিয়ে দেখে, একটি গাড়ির ভেতরে মহিলাটি মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। আর তাঁর সঙ্গী তখনও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কষ্ট পাচ্ছিলেন।" এরপর পুলিশের দল তড়িঘড়ি যুবককে স্থানীয় গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় তার। পরে পুলিশ গাড়ি থেকে ২০ মিটার দূরে একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে।
এসডিপিও রায় সংবাদমাধ্যমকে আরও বলেছেন, "প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, যুবকটি প্রথমে তাঁর প্রেমিকাকে খুন করেন, তারপর নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা এখানে অন্য কারও হাত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছি। কিন্তু এটা প্রায় নিশ্চিত যে প্রেমের সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।"
প্রসঙ্গত, পরকীয়া সন্দেহের জেরে একের পর এক হামলা, খুন। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটল। সন্দেহের বশে প্রেমিকার ওপর হামলা চালানোর পর আত্মহত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সি এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইতে। পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে, সনু বারাই নামের এক যুবক প্রথমে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকাকে ছুরি মারেন। তারপর নিজেই নিজের উপর হামলা চালান। ঘটনায় সনু বারাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রেমিকা মণীষা যাদব।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, যে সনু এবং মণীষার মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাত্র আট দিন আগেই তাঁদের সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। জানা গিয়েছে, সনু বারাই বারবার মণীষার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেন। এমনকী তিনি অন্য কোনও সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করতেন। এই আক্রোশই এই ভয়াবহ কাণ্ডের জন্ম দিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সনু তাঁর মাকে বাইরে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বেরোন। খবর অনুযায়ী, বাড়ির রান্নাঘর থেকে তিনি গোপনে একটি ছুরি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। এরপর সনু মণীষাকে একটি নার্সিং হোমের সামনে 'শেষবারের মতো' দেখা করার জন্য ডাকেন। তাঁদের মধ্যে কথা বলার সময়ই বচসা শুরু হয়। রাগে দিকবিদিকশুন্য হয়ে সনু বারাই মণীষাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।
প্রেমিকাকে আক্রমণের পর ২৪ বছর বয়সি ওই যুবক নিজের ওপরও ছুরি চালান। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিগুলিতে দেখা যায়, নার্সিং হোমের প্রবেশদ্বারে রক্তাক্ত সনু বারাই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তাঁর চারপাশে রক্ত ছড়িয়ে রয়েছে। পরে আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা। বর্তমানে আহত মণীষা যাদবের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
