নিজের লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে 'গর্বিত' এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুরুষাঙ্গের নাম রাখেন 'জাম্বো'! কে জানেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫ : ১০
শেয়ার করুন
1
9
একদিকে তিনি আব্রাহাম লিংকনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার আইন কার্যকর করেছিলেন, অন্যদিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধকে ভয়াবহ রূপ দেওয়ার দায়ও তাঁর কাঁধে। কিন্তু রাজনৈতিক সাফল্য–ব্যর্থতার বাইরেও জনসনের ব্যক্তিত্ব ঘিরে এমন কিছু আচরণ ও কাহিনি রয়েছে, যা আজও ইতিহাসবিদদের বিস্মিত করে।
2
9
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬তম প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন ইতিহাসে এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের নাম। শারীরিকভাবেই ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের খুব কাছে দাঁড়াতেন, উচ্চস্বরে কথা বলতেন, অশ্রাব্য রসিকতা করতেন এবং নিজের শারীরিক বিষয় নিয়েও কোনও রাখঢাক করতেন না। জীবনীকারদের মতে, ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
3
9
এই আচরণেরই সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক ছিল নিজের পুরুষাঙ্গ নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য ‘অবসেশন’। জনসন নিজের পুরুষাঙ্গের নাম দিয়েছিলেন ‘জাম্বো’। কলেজ জীবন থেকেই তিনি এটি নিয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করতেন বলে ইতিহাসবিদ ব্লেমা এস. স্টেইনবার্গ উল্লেখ করেছেন। স্নানের পর নগ্ন অবস্থায় বন্ধুদের সামনে হাজির হওয়া, যৌন সাফল্য নিয়ে বড়াই করা—এই প্রবণতা বয়সের সঙ্গে কমেনি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তাঁর আচরণে সেই আত্মম্ভরিতা রয়ে গিয়েছিল।
4
9
খ্যাতনামা জীবনীকার রবার্ট এ. ক্যারো লিখেছেন, ওয়াশিংটনের সরকারি ভবনের শৌচালয়ে জনসন প্রায়ই সহকর্মীদের সামনে অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে কথা শুরু করতেন। কখনও কখনও নিজের শরীর প্রদর্শন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিতেন "এত বড় আগে কখনো দেখেছো?"—এমন নজির নথিভুক্ত রয়েছে। হোয়াইট হাউসের সুইমিং পুলে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে নগ্ন সাঁতার কাটা এবং তুলনামূলক মন্তব্য করাও তাঁর অভ্যাসের মধ্যে পড়ত।
5
9
এই আচরণ শুধু রসিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। জনসনের ‘শক্তি প্রদর্শন’-এর মধ্যে অপমান ও ভয় দেখানোর প্রবণতাও ছিল। একাধিক সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি প্রকাশ্য স্থানে প্রস্রাব করতেও দ্বিধা করতেন না, এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস কর্মীদের প্রতিও চরম অসংবেদনশীল আচরণ করতেন। এক ঘটনায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি তাঁর ‘প্রাধিকার’।
6
9
সবচেয়ে বিস্ময়কর কাহিনিগুলোর একটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে। জীবনীকার রবার্ট ডালেকের মতে, একবার সাংবাদিকরা যুদ্ধের কারণ জানতে চাইলে জনসন যুক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং অশ্লীল ভঙ্গিতে বলেন—এই কারণেই নাকি যুদ্ধ। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল চূড়ান্ত ক্ষমতাদর্শী আচরণের এক নগ্ন প্রকাশ।
7
9
এমনকি তাঁর পোশাকও বিশেষভাবে বানানো হতো। হোয়াইট হাউসে রেকর্ড করা একটি ফোনালাপে জনসন নিজের দর্জিকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন—প্যান্টের কুচকির অংশে অতিরিক্ত জায়গা রাখতে হবে, না হলে অস্বস্তি হয়। এই অডিও রেকর্ডই ‘জাম্বো’ সংক্রান্ত একমাত্র প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে ইতিহাসে রয়ে গেছে।
8
9
ইতিহাসবিদদের মতে, এই সব আচরণ নিছক ব্যক্তিগত বিকৃতি নয়। এগুলো ছিল ক্ষমতা, আধিপত্য ও পুরুষত্বকে প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠা করার এক অদ্ভুত কিন্তু সচেতন কৌশল। জনসনের ক্ষেত্রে ‘জাম্বো’ কেবল একটি শারীরিক অঙ্গ নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক ও মানসিক চরিত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
9
9
আজকের দিনে সেই প্রকাশ্য ক্ষমতা প্রদর্শনের ধরন বদলেছে। কিন্তু পুরুষত্ব, আকার ও সক্ষমতা নিয়ে যে মানসিক চাপ—তা রয়ে গেছে, শুধু তার উৎস এখন স্মার্টফোনের পর্দা ও ডিজিটাল সংস্কৃতি। লিন্ডন বি জনসনের সময় হোয়াইট হাউসের করিডরে যা ঘটত, আজ তা ঘটছে নিঃশব্দে, একাকী, স্ক্রিনের সামনে। সময় বদলেছে, কিন্তু পুরুষ মানসিকতার গভীর সংকট আজও ইতিহাসের মতোই প্রাসঙ্গিক।