নিতাই দে, আগরতলা: "সমাজে যত বেশি যুবসমাজকে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও ভাবধারায় অনুপ্রাণিত করা যাবে, সমাজ তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। স্বামী বিবেকানন্দ বিভেদহীন, বলিষ্ঠ ও আত্মবিশ্বাসী ভারত গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি দেশের যুবসমাজকে জাতীয়তাবোধ ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ করে বিশ্ব দরবারে ভারতের মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্বামীজী ভারতের গর্ব ও বিস্ময়। তাঁর মতে, কাজের কোনও বিকল্প নেই - মানুষের সেবায় যত বেশি নিজেকে নিয়োজিত করা যায়, ততই অন্তরের আত্মতৃপ্তি বৃদ্ধি পায়।" শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী আগরতলার রামকৃষ্ণ মিশনের সিটি সেন্টারে স্বামী বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তি স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা এই কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী  আরও বলেন, "১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের মানসিক মেধা, শিক্ষা ও শ্রমশক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। স্বামী বিবেকানন্দকে জানলেই ভারতকে জানা যায়। ভারতীয় সংস্কৃতির মূল দর্শন হল - বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য।"

মানিক সাহাক কথায়, "পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কিছু দিক আজ আমাদের যুবসমাজকে প্রভাবিত করছে, যার ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য ও পরম্পরা। তাই নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষা করেই পাশ্চাত্য থেকে ভাল দিকগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ছাত্র ও যুবসমাজের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছেন। সেই লক্ষ্যেই ভারত সরকার ভারতীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছে। দেশের অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রামকৃষ্ণ মিশন স্বীকৃত। মিশন দীর্ঘদিন ধরে উৎকৃষ্ট মানের শিক্ষা প্রদান করে আসছে। শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়াই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় - সমাজের প্রতিও শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে। রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে শিক্ষা বিস্তারে রামকৃষ্ণ মিশনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।"

অনুষ্ঠানে বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দজী মহারাজ বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাঙ্গাইল রোডে রামকৃষ্ণ মিশনের ইতিহাস ও স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, "স্বামী বিবেকানন্দ একজন বিশ্বগুরু। রামকৃষ্ণ মিশনের ১২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সমাজকে আরও স্বচ্ছ ও সুন্দর করে তুলতে ছাত্র ও যুবসমাজের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ নিয়ে চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন। এই মূর্তি স্থাপনের ফলে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ স্বামীজির আদর্শে আরও অনুপ্রাণিত হবে।" 

সিটি সেন্টারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলার বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক শুভকারানন্দজী মহারাজ, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। স্বামী বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশনের ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।