আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতিতে একবার সমঝোতায় পৌঁছে গেলে পরে তা থেকে সরে আসা সহজ নয়—এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ডিভোর্সের ডিক্রি জারি হওয়ার আগে পর্যন্ত সম্মতি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও, সেটিকে চুক্তির দায় এড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, যদি কোনও দম্পতি মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি চুক্তিতে পৌঁছান এবং তা যথাযথভাবে অনুমোদিত হয়, তবে পরে সেই চুক্তি ভাঙলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে “ভারী খরচের” বোঝা বহন করতে হবে। বেঞ্চের মতে, এই ধরনের আচরণ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়, তাই এই ধরনের বিচ্যুতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।


কখন চুক্তি থেকে সরে আসা সম্ভব?
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, খুব সীমিত কিছু ক্ষেত্রে—যেমন প্রতারণা, জোরজবরদস্তি, অযাচিত প্রভাব বা অপর পক্ষের চুক্তি লঙ্ঘন—সমঝোতা থেকে সরে আসার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এই ব্যতিক্রম ছাড়া, মধ্যস্থতায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মান্য করা বাধ্যতামূলক।


মামলার প্রেক্ষাপট
এই রায়টি এসেছে একটি দাম্পত্য বিরোধের প্রেক্ষিতে। ২০০০ সালে বিয়ে হওয়া ওই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। মতবিরোধের জেরে ২০২২–২৩ সালের দিকে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। পরে স্বামী ‘নিষ্ঠুরতা’ ও ‘ব্যভিচার’-এর অভিযোগে ডিভোর্সের আবেদন করেন।


মামলাটি মধ্যস্থতায় গেলে উভয় পক্ষই সমস্ত বিরোধ মিটিয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হন। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয় এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের আগেই স্ত্রী সম্মতি প্রত্যাহার করে নেন।


পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও বিতর্ক
স্বামী প্রথমে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে অবমাননার মামলা করেন, পরে তা প্রত্যাহার করে দিল্লি হাইকোর্টে যান। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্ত্রী গার্হস্থ্য হিংসা আইনে মামলা দায়ের করেন।
স্বামীর দাবি ছিল, এটি আইনের অপব্যবহার। যদিও হাইকোর্ট নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।


সুপ্রিম কোর্টের রায়
শীর্ষ আদালত গার্হস্থ্য হিংসার মামলাটিকে “পূর্বপরিকল্পিত” ও “পরবর্তী চিন্তা” বলে অভিহিত করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনে এমন অভিযোগ আগে ওঠেনি; বরং সমঝোতা নিয়ে বিরোধের পরই তা সামনে এসেছে। তাই এই মামলা চলতে দেওয়া হলে তা আইনের অপব্যবহার হবে বলে রায় দেয় আদালত এবং মামলাটি খারিজ করে।


পাশাপাশি আদালত জানায়, এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে এবং পুনর্মিলনের কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করা হয় এবং উভয় পক্ষকে সমঝোতার বাকি শর্ত পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।


বার্তা কী?
এই রায় স্পষ্ট করে দেয়, মধ্যস্থতার মাধ্যমে হওয়া সমঝোতা শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আইনত বাধ্যতামূলক। একবার চুক্তিতে সম্মত হলে পরে তা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে আইনি ও আর্থিক ফল ভোগ করতে হতে পারে।