আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় কেন্দ্রে পুরোহিতদের সংরক্ষিত বংশবৃত্তান্ত নথি ডিজিটাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের জাতীয় আর্কাইভ। এই প্রকল্পের আওতায় গয়া, কাশী, প্রয়াগরাজ, কেদারনাথ, উজ্জয়িনী এবং বদ্রীনাথের মতো স্থান থেকে পুরোহিতদের নিকট থেকে এই ঐতিহ্যবাহী রেকর্ড সংগ্রহ করা হবে।
জাতীয় আর্কাইভ-এর মহাপরিচালক অরুণ সিঙ্ঘল জানান, “এই রেকর্ডগুলি পরিবারের প্রজন্মের তথ্য সংরক্ষণ করে আসছে, যা পুস্তিকার মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে। এগুলি সংরক্ষণের প্রয়াসে আমরা এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে ডিজিটাল আর্কাইভে পরিণত করছি।” তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আর্কাইভ কাউন্সিলের দক্ষিণ ও পশ্চিম এশীয় শাখার বৈঠকে এই ঘোষণা করেন।
যদিও এই পুরানো রেকর্ডগুলি ক্ষতির মুখে পড়েছে, জাতীয় আর্কাইভ সেগুলি রক্ষা করার জন্য পুরোহিতদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। উজ্জয়িনীর পুরোহিতরা এই উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন এবং সেখান থেকে শীঘ্রই ডিজিটাইজেশনের কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভারতের তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত উল্লেখ করেন, “ডিজিটাইজড আর্কাইভ আমাদের ভবিষ্যত সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হবে।” তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের সুফল নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত, কারণ স্বাধীনতার আগের সমস্ত নথি এই দেশগুলোর মধ্যে এক ধরণের সাংস্কৃতিক ঐক্য বহন করে।
জাতীয় আর্কাইভ-এর প্রথম আন্তর্জাতিক প্রকল্প ওমানে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৭,০০০ এরও বেশি নথি ডিজিটাইজ করা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় আর্কাইভ-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণেরও কাজ শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ৩০ কোটি পৃষ্ঠার একটি বৃহত্তম আর্কাইভ ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের কাজ করছে ভারত, যা বিশ্বের বৃহত্তম উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সিঙ্ঘল।
