আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভয়ঙ্কর! দিনের পর দিন স্কুলের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার ১২ বছরের এক ছাত্রী। যে ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক থেকে পিওন, স্কুলের আরও কর্মীরাও। অবশেষে নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক শিক্ষক ও পিওনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশায়। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রপাড়া জেলায় এক বেসরকারি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। শিক্ষক, পিওন মিলিয়ে স্কুলের পাঁচজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল থানায়। যে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওলাভারের অক্সফোর্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী লাগাতার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। স্কুলের চারজন শিক্ষক ও পিওনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছে সে। ছাত্রীর মা থানায় জানিয়েছে, কখনও জোরজবরদস্তি, কখনও বা হুমকি দিয়ে তাকে দিনের পর দিন স্কুলের মধ্যে যৌন নির্যাতন করা হত। 

 

গত ১৪ জানুয়ারি বাড়িতে কান্নাকাটি করছিল ওই ছাত্রী। তখনই পরিবারের সদস্যদের যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি জানায় সে। এরপর একমাসের বেশি সময় পর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ছাত্রীর মা। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এবং পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় এক শিক্ষিকা রয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকদের এই কাণ্ডে তিনি সাহায্য করেছিলেন বলেও জানা গেছে। 

 

এসটিআই এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে জোরকদমে। স্কুলেও ফরেন্সিক টিমের একটি দল গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। নাবালিকা ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। 

 

গত বছর পরপর একাধিক নাবালিকা, কিশোরী, কলেজ ছাত্রী বিজেপি শাসিত রাজ্যে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট, ১৩ বছরের এক কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেটিও ওড়িশার ঘটনা। বালেশ্বর, বালাঙ্গা ও কেন্দ্রপাড়ার পর এবারের ওড়িশার বারগড় জেলা। ৩০ দিনের মাথায় একই ঘটনা, চারবার। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছিল, মামার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গ্রামের ফুটবল মাঠে অচৈতন্য অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে একাধিক জায়গায় পোড়া দাগ ছিল। দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বুরলার বীর সুরেন্দ্র সাঁই ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। 

 

গত কয়েক মাসেই ওড়িশার একাধিক কলেজ পড়ুয়া গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রপাড়ায় তৃতীয়বার এই ঘটনা ঘটেছে। এক কলেজ ছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। তিনিও গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হন। পরিবারের তরফে ওই ছাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মানসিক নির্যাতন ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। বারবার তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হত বলেও অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার। 

 

এর আগে গত ১২ জুলাই ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ফকির মোহন কলেজের বি.এড-এর ছাত্রী ছিলেন এক তরুণী। ওই কলেজের হেড অব দ্যা ডিপার্টমেন্ট সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পয়লা জুলাই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান তরুণী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, সাতদিনের মধ্যে তদন্ত করে, উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। কিন্তু সাতদিন পার করেও কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে কারও কোনও মাথা ব্যথা ছিল না। অবশেষে কলেজের মধ্যে প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তরুণী ও তাঁর বন্ধুরা। 

 

কলেজের গেটের সামনে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। দলে ছিলেন তরুণীও। হঠাৎ সকলের মাঝখান থেকে উঠে সোজা কলেজের করিডোরে চলে যান। সেখানে গিয়েই গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন। তাঁর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখেই ছুটে আসেন সহপাঠীরা। তাঁরাও আগুন নেভাতে তোড়জোড় শুরু করেন। কয়েক মিনিট পর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দুই দিন পরেই তরুণীর মৃত্যু হয়। 

 

এরপর গত ১৯ জুলাই ওড়িশার পুরী জেলার বালাঙ্গা থানার অন্তর্গত এলাকায় আরও একটি এমন ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ঘটনার দিন তিনজন বাইক আরোহী প্রথমে এক তরুণীকে অপহরণ করে। পরে তারা মেয়েটিকে ভরগবী নদীর তীরে নিয়ে যায়। বাইবর গ্রাম সংলগ্ন একটি নির্জন জায়গায় তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেই তরুণীর গায়ে প্রথমে একটি দাহ্য পদার্থ ঢালে৷ এরপর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর।