আজকাল ওয়েবডেস্ক: জীবন সংগ্রাম একেই বলে। সকালে শিক্ষকতা। আর রাতে ডেলিভারি বয়। এভাবেই সংসারের ভার একার কাঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা অমিত কুমার।
পরিবারের বড় ছেলে। কোভিডের সময় দেড় বছর ছিলেন কর্মহীন। তারপর পরীক্ষা দিয়ে সরকারি স্কুলে পার্শ্ব শিক্ষকতার চাকরি পান। স্কুলের শারীরশিক্ষার টিচার তিনি।
সরকারি চাকরি পেলেও বেতন বেশি নয় অমিতের। মাত্র আট হাজার টাকা পান। যাতে সংসার চলে না। তাই বেছে নিয়েছেন ফুড ডেলিভারির কাজ। পাশাপাশি স্কুলের পড়ুয়াদের অনবরত খেলাধুলায় আগ্রহ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। অমিত জানিয়েছেন, ‘গত প্রায় আড়াই বছর ধরে বেতন বাড়েনি। যেখানে অন্য শিক্ষকরা প্রায় ৪২ হাজার টাকা বেতন পান, সেখানে আমার বেতন ওই আট হাজার টাকা। তাই অগত্যা অন্য কাজ খুঁজতে হয়েছে।’
বছরের শুরুতে অমিত সহ আরও একাধিক পার্শ্ব শিক্ষক প্রায় চার মাসের বেতন পাননি। তখন বন্ধুদের কাছে হাত পাততে হয়েছে অমিতকে। কিন্তু দিনে দিনে ঋণের টাকা বেড়ে চলছিল। এরপরই স্ত্রীর পরামর্শে জোমাটোর ফুড ডেলিভারি বয়ের কাজ শুরু করেন অমিত। তাঁর কথায়, ‘এই কাজের নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই। তাই সকালে পড়ুয়াদের পড়াই। আর বিকেল পাঁচটা থেকে রাত একটা অবধি ফুড ডেলিভারির কাজ করি।’
জানা গেছে কোভিডের আগে একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন অমিত। কোভিডের সময় চাকরি চলে যায়। তারপর অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়ে সরকারি চাকরি পান। কিন্তু পার্শ্ব শিক্ষক হওয়ায় বেতন বেশ কম। অমিতের কথায়, ‘মাত্র আট হাজার টাকায় সংসার চলে না। সন্তানদের কীভাবে মানুষ করব? বাড়িতে বৃদ্ধা মা রয়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই দুটি কাজ করতে হচ্ছে।’
