আজকাল ওয়েবডেস্ক: ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-য়ের (এই দলে এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যোগ দিয়েছেন) নির্বাচনী যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ২০২৩ সালে ত্রিপুরার তিনটি বিধানসভা আসনে। সেবার মাত্র ৮৪০টি ভোট পেয়েছিল এই দল। তিন বছর পর, জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ের বদলে সংসদীয় সমীকরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে এনসিপিআই লোকসভায় অন্যতম বৃহত্তম গোষ্ঠীতে পরিণত হতে চলেছে। এই বৈপরীত্যই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিশালতাকে তুলে ধরে।
'নথিভুক্ত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল' হিসেবে তালিকাভুক্ত এনসিপিআই ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ০.০৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। রাজ্যের তিনটি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই ছিল দলটির এ পর্যন্ত একমাত্র নির্বাচনী লড়াই। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দলটির তহবিলে উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৫ টাকা।
২০২৩ সালের নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৮ লক্ষ বৈধ ভোট পড়েছিল। ০.০৩ শতাংশ ভোট পাওয়ার অর্থ হল রাজ্যজুড়ে তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৪০।
তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদরা এই স্বল্প-পরিচিত দলটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যন্ত এনসিপিআই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি কিংবা কোনো সংসদীয় বা বিধানসভা আসনও জেতেনি।
নির্বাচনী রাজনীতিতে যাদের কার্যত কোনও অস্তিত্বই ছিল না, সেই দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি 'অস্বীকৃত দল' হিসেবে নথিভুক্ত। অথচ নির্বাচনী ইতিহাসে মাত্র ৮০০-৯০০ ভোটের মালিক থেকে রাতারাতি সংসদে অন্যতম বৃহত্তম গোষ্ঠীতে পরিণত হওয়া, ভারতীয় রাজনীতিতে এটি এক অভূতপূর্ব ঘটনা।
২০২৩ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই এনসিপিআই-এর প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছিলেন। ঠিক এই কারণেই বর্তমান ঘটনা মোড় ঘারানো। যে দলের সম্পূর্ণ নির্বাচনী ইতিহাস একটি রাজ্য নির্বাচনে মাত্র ৮৪০ ভোট পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তারাই এখন ২০ জন 'বিদ্রোহী' তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে সংসদে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে চলেছে। বিজেপির পর এনডিএ-র মধ্যে এনসিপিআই-ই হবে বৃহত্তম শরিক দল।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ জিতেছিল ২৯৩ আসন। জোটের প্রদান শরিক ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেয়েছিল ২৪০ আসন। তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-র ঝুলিতে ১৬ আসন। এছাড়, জনতা দল (ইউনাইটেড) ১২, শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী)৭, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) ৫, জেডি(এস) ২, রাষ্ট্রীয় লোক সেনা দল (এসপি) ১, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল ১, অসম গণ পরিষদ ১ এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী)-র ১ জন সাংসদ জিতেছিল।















