আজকাল ওয়েবডেস্ক: টিসিএস বা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস-এর কর্মী সংখ্যা নিয়ে সম্প্রতি ডেকান হেরাল্ডের একটি প্রতিবেদন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দেশের বৃহত্তম এই আইটি সংস্থায় গত এক বছরে কর্মী সংখ্যায় এক বড়সড় পরিবর্তন দেখা গেছে। হিসেব বলছে, ২০২৫ অর্থবর্ষে যেখানে সংস্থার মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ৬,০৭,৯৭৯ জন, ২০২৬ অর্থবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৮৪,৫১৯ জনে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২৩,০০০ জন কর্মী কমেছে এই সংস্থায়। গত বছরও সংস্থাটি ১২,২৬০ জন কর্মীর ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করেছিল, যা এই পরিস্থিতির গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ অর্থবর্ষের পর থেকেই সামগ্রিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে নতুন নিয়োগের গতি বেশ ধীর। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে আইটি পরিষেবার চাহিদার অভাবকে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও টিসিএস তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী। সংস্থার প্রধান এইচআর অফিসার সুদীপ কুন্নুমাল দ্যা ওয়্যার-কে জানিয়েছেন, চতুর্থ ত্রৈমাসিকে তারা অভিজ্ঞ পেশাদারদের পাশাপাশি নতুনদেরও সুযোগ দিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য এখন একটি 'এআই-ফার্স্ট' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা। ২০২৬ অর্থবর্ষের মতো ২০২৭ সালেও কর্মীদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার বিষয়টি তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।

https://www.youtube.com/shorts/CmbDteSIFTk

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই কর্মীদের সংখ্যায় বড় পতন লক্ষ করা গিয়েছিল। সেই সময় জুন মাসের ৬,১৩,০৬৯ থেকে কমে সেপ্টেম্বর শেষে কর্মী সংখ্যা দাঁড়ায় ৫,৯৩,৩১৪ জনে। গত জুলাই মাসে টিসিএস জানিয়েছিল যে তারা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ শতাংশ বা ১২,০০০ জন ছাঁটাই করবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, কর্মী হ্রাসের এই মাত্রা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।

আসলে বিশ্বজুড়ে আইটি ক্ষেত্রে ওপর এক ধরণের মন্দার ছায়া দেখা যাচ্ছে। গ্রাহক কোম্পানিগুলো তাদের বাজেট কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রথাগত কাজের বদলে জেনারেটিভ এআই এবং অটোমেশনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতেই সম্ভবত টিসিএস-এর মতো বড় সংস্থাকে তাদের কর্মীবাহিনীর কাঠামোয় এত বড় রদবদল করতে হচ্ছে। একদিকে যেমন কর্মী কমছে, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সংজ্ঞাকেই বদলে দিচ্ছে।