আজকাল ওয়েবডেস্ক: অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিতে (আপ) বড়সড় ধস নামিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঠিক একদিন পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন স্বাতী মালিওয়াল। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল তাঁর মুখে। কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে 'গুন্ডাগর্দি' এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মালিওয়াল দাবি করেন, যে মানুষটি একসময় পরিবর্তনের আশা দেখিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন, আজ তিনি ক্ষমতার নেশায় চুরমার।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বাতী বলেন, "আমি কোনও চাপে পড়ে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। যাঁরা গঠনমূলক রাজনীতি করতে চান, তাঁদের প্রত্যেকেরই বিজেপিতে আসা উচিত।" নিজের পুরনো দলের প্রধানকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময় কেজরিওয়াল ছেঁড়া প্যান্ট পরতেন, দু'টাকার কলম ব্যবহার করতেন এবং ভাঙাচোরা গাড়ি চড়তেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে নিজের জন্য 'শীশ মহল' তৈরি করেছেন। সেখানে কয়েক কোটির কার্পেট থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার ফ্রিজ ও বিলাসবহুল সোফা রয়েছে। সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি এখন বিলাসিতায় ডুবে আছেন।
মালিওয়াল আরও অভিযোগ করেন যে, কেজরিওয়াল আসলে মহিলা-বিরোধী। ২০২৪ সালে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী বিভব কুমার মালিওয়ালকে মারধর করেছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, "কেজরিওয়াল একজন গুন্ডাকে দিয়ে আমার নিজের বাড়িতে আমাকে মার খাইয়েছেন। আমি যখন আওয়াজ তুললাম, তখন আমাকে হুমকি দেওয়া হল এবং এফআইআর তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হল। এমনকি গত দুই বছর আমায় সংসদে কথা বলতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।" তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যে ব্যক্তি একসময় ভিআইপি কালচারের বিরোধিতা করতেন, আজ তাঁর কনভয়ে ৫০টির বেশি গাড়ি থাকে। কেজরিওয়ালকে 'আসল বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, পঞ্জাবকে এখন ব্যক্তিগত এটিএম-এ পরিণত করেছে আপ।
এদিকে, শুক্রবার রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং হরভজন সিংয়ের মতো মোট সাতজন সাংসদ আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আপ নেতা সঞ্জয় সিং এই সাতজনকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে কটাক্ষ করেছেন এবং বিজেপির 'অপারেশন লোটাস'-কে এর জন্য দায়ী করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মণীশ সিসোদিয়া ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল তড়িঘড়ি বৈঠকও করেছেন। তবে আপ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণনকেও চিঠি লিখবেন যাতে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এই সাংসদদের পদ খারিজ করা হয়। দলের দাবি, সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী এই ধরণের দলবদলকে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।















