আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বিহার সরকারের এক আধিকারিকের দণ্ডাদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ওই আধিকারিক ঘুষ নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। আদালত এই স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় বিস্ময় প্রকাশ করে জানায় যে, মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এবং বাজেয়াপ্ত করা নোটগুলো (বিচার প্রক্রিয়ার নিজস্ব নথিপত্র অনুযায়ী) ইঁদুরে খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছে।

বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ সরকারি আধিকারিক অরুণা কুমারীর জামিন মঞ্জুর করে এবং তাঁর দণ্ডাদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। ঘটনার সময় অরুণা কুমারী বিহারের 'শিশু বিকাশ কর্মসূচি আধিকারিক' হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরবর্তী কোনও এক তারিখে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে শোনা হবে।

বেঞ্চ মন্তব্য করে, "আমরা এটা জেনে স্তম্ভিত হয়েছি যে, বাজেয়াপ্ত নোটগুলো ইঁদুরে নষ্ট করে ফেলেছে। এটি রাজ্যের রাজস্বের জন্য একটি বড় ক্ষতি এবং এ ধরনের ঘটনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে।" আদালত আরও জানায়, নোটগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়নি।

তৎকালীন  'শিশু বিকাশ কর্মসূচি আধিকারিক' কুমারী দেবীর বিরুদ্ধে ১০,০০০ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ছিল। 'দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন'-এর আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নিম্ন আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করলেও, পাটনা হাইকোর্ট সেই রায় খারিজ করে তাঁকে কারাদণ্ড দিয়েছিল।

পাটনা হাইকোর্ট তাদের নিজস্ব রায়ে স্বীকার করে নিয়েছিল যে, বাজেয়াপ্ত নোটগুলো ইঁদুরে খেয়ে নষ্ট করে ফেলার কারণে সেগুলোকে প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। তবে আদালত মত প্রকাশ করেছিল যে, 'প্রপার্টি রুম রেজিস্টার' বা মালখানার নথিতে ঘুষের টাকা জমা হওয়ার যে উল্লেখ রয়েছে, সেটাই ওই আধিকারিককে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট। আদালত আরও বলেছিল যে, ঘুষের নোটগুলো না থাকলেও বিচারব্যবস্থায় মামলা দুর্বল হয়ে যায় না।

সুপ্রিম কোর্ট এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শুনানির অপেক্ষায় হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে।