আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেডিক্যালের প্রবেশিকা নিট-এর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে আমরণ অনশনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় গতকাল দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সফদরজং হাসপাতালে জোর করে স্থানান্তরিত করে। তবে হাসপাতাল থেকেই পাঠানো তাঁর একটি হাতে লেখা চিঠিতে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, তাঁকে সেখানে 'বেআইনিভাবে বন্দি' করে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়েও অনশন ভাঙেননি ওয়াংচুক। বরং হাসপাতাল থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে আগামীকাল সংসদ ভবন অভিযান সফল করার ডাক দিয়েছেন তিনি। এমনই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

সফদরজং হাসপাতাল থেকে স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর মাধ্যমে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন সোনাম। বর্তমান ছাত্র আন্দোলনকে তিনি দেশের 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন' বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, 'জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো অন্যায় এবং আমার এই বেআইনি বন্দিদশার মতো ভয়ার্ত পরিবেশ থেকে মুক্তিই এখন আসল লক্ষ্য। আগামীকাল, ২০ জুলাই, সংসদ ভবনের মিছিলে যোগ দিয়ে এই কর্মসূচিকে সফল করুন।"

 

এ দিকে, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু আগামীকাল থেকেই। ওয়াংচুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে এই প্রতিবাদী মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। নিজেই ঘোষণা করেছেন সে কথা। একইসঙ্গে, সফদরজং হাসপাতালে ওয়াংচুকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। স্বামীর যথাযথ চিকিৎসার জন্য সোনামকে সরকারি হাসপাতাল থেকে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন গীতাঞ্জলি।

 

উল্লেখ্য, লাদাখের পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত সোনাম ওয়াংচুক। এবার তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিতে এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন। গত ২৮ জুন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে 'ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন সোনাম। মরণাপন্ন ওয়াংচুককে বাঁচাতে দিল্লি হাইকোর্ট সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ার পরই পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে থাকলেও অনশনের সিদ্ধান্ত থেকে সরতে নারাজ ওয়াংচুক।