আজকাল ওয়েবডেস্ক: টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস-এর নাসিক শাখায় যৌন হেনস্থা এবং জোর ধর্মান্তরকরণের যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে, তা বর্তমানে গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এক প্রাক্তন কর্মীর বয়ান অনুযায়ী, ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এই আইটি সংস্থার একটি নির্দিষ্ট অফিসের অন্দরে কার্যত এক সমান্তরাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল কিছু অসাধু টিম লিডার। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অফিসের ডেস্ককে কাজের বদলে মহিলা সহকর্মীদের মানসিক ও নৈতিক শোষণের কাজে ব্যবহার করা হতো। অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় কথা বলা থেকে শুরু করে মহিলাদের শাড়ি বা কপালে টিপ পরা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য— কিছুই বাদ যায়নি এই অভিযোগে।
অভিযোগের তির প্রধানত তৌসিফ আত্তার নামের এক কর্মীর বিরুদ্ধে, যিনি নিয়মিত হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করতেন বলে জানা গেছে। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে, আটজন মহিলা কর্মী ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই অত্যাচার চলেছে। শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, অফিসের ভেতরে একটি ধর্মান্তর সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। এক কর্মীর দাবি, কৃষ্ণা নামের তাঁর এক সহকর্মী, যিনি নিয়মিত রুদ্রাক্ষ পড়তেন, তাঁকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়। এমনকি এক পুরুষ কর্মীকেও জোর করে নামাজ পড়ানো এবং ধর্ম তুলে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে।
এই গোটা ঘটনায় নাসিক পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করেছে। এখনও পর্যন্ত দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসারী এবং এইচআর ম্যানেজার অশ্বিনী চৈনানীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিসিএস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বরখাস্ত করেছে। পলাতক আর এক অভিযুক্ত নিদা খান আগাম জামিনের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। প্রাক্তন কর্মীদের অভিযোগ, অফিসের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মোবাইল, ব্যাগ ও লাঞ্চ বক্স ফ্লোরের বাইরে রাখিয়ে দেওয়া হতো যাতে ভেতরের কোনো ঘটনাই বাইরে না আসে বা তার প্রমাণ না থাকে।
সংস্থার ম্যানেজমেন্ট কীভাবে এই ভয়াবহ ‘সমান্তরাল ব্যবস্থা’ সম্পর্কে অন্ধকারে ছিল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং যন্ত্রণাদায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, টিসিএস-এর চিফ অপারেটিং অফিসার আরতি সুব্রমানিয়ানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, এই সংগঠিত ধর্মান্তরকরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলিকে এই ধরনের প্রতারণামূলক ধর্মান্তর রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। টিসিএস তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা যে কোনও ধরনের হেনস্থার বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি মেনে চলে এবং পুলিশি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তবে এই ঘটনায় কর্পোরেট অফিসের সংস্কৃতি এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।















