আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সাফ জানিয়েছেন যে, ভারতের সমসাময়িক জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির কাঠামোর প্রধান রূপকার হিসেবে দোভাল অসামান্য ভূমিকা পালন করছেন।
মহারাষ্ট্রের পুনেতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং বিদেশনীতিতে কৌশলগত নীতি নির্ধারণে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে 'লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার' দেওয়া হয়।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং এনএসএজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের জন্য দৃঢ় ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোভালের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং কৌশলগত দূরদর্শিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব এবং দোভালের নির্দেশে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় ভারত ঐতিহাসিকভাবে কেবল পরিস্থিতির জবাব দেওয়ার অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি শক্তিশালী, সক্রিয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম প্রতিরক্ষা শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

শাহ, নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় দোভালের নেতৃত্বের কথাও স্বীকার করেন। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী পদক্ষেপ, সীমান্ত সংঘাত (যেমন- ডোকলাম) এবং জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান।

ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) দোভালের কর্মজীবনের প্রশংসা করে শাহ বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের গোপন ও প্রকাশ্য গোয়েন্দা পরিষেবা জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দোভাল, তিলকের সেই স্বপ্ন (এক আত্মনির্ভর, নিরাপদ ও সার্বভৌম ভারত বা 'স্বরাজ্য') রূপায়ণে কাজ করে চলেছেন।

১৯৬৮ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক অজিত দোভাল হলেন দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ২০১৪ সালের মে মাসে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে এই পদে রয়েছেন এবং পরপর কয়েকটি মেয়াদে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন।

অজিত দোভালের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক:
গত ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে 'ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি' (সিসিএস)-এর একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং নিরাপত্তা আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি মর্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনা করেন।