আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ধীরে ধীরে চালু হয়েছে E20 পেট্রোল। অর্থাৎ, পেট্রোলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানো হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং অপরিশোধিত তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে E20 পেট্রোল ব্যবহারে পুরনো গাড়ির কিছু যন্ত্রাংশের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে গবেষণা।
বিশেষ করে BS-III মানের পুরনো গাড়িগুলিতে ব্যবহৃত কিছু রাবার ও গ্যাসকেট জাতীয় অংশ দীর্ঘদিন E20 পেট্রোলের সংস্পর্শে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি রাজ্যসভায় জানিয়েছেন, ২০০৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে তৈরি হওয়া এবং ২০১৬ সালের আগে উৎপাদিত BS-III গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু রাবার অংশ ও গ্যাসকেট বদলের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এগুলি সাধারণ সার্ভিসিংয়ের সময় সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব।
কোন কোন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
গাড়ির ফুয়েল সিস্টেমে থাকা বিভিন্ন প্লাস্টিক ও রাবারের মতো নমনীয় উপাদান বা ইলাস্টোমার E20 পেট্রোলের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংস্পর্শে এলে পরিবর্তিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
ফুয়েল হোস বা পাইপ
রাবার সিল
গ্যাসকেট
O-Ring
ফুয়েল পাম্পের কিছু অংশ
অন্যান্য ফুয়েল সিস্টেমের প্লাস্টিক ও রাবার কম্পোনেন্ট
অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, E20 জ্বালানির কারণে কিছু পুরনো উপাদানের শক্তভাব বৃদ্ধি, নমনীয়তা কমে যাওয়া এবং আকারে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
কীভাবে ক্ষতি করে E20 পেট্রোল?
গবেষণায় দেখা যায়, E20-এর সংস্পর্শে কিছু রাবার ও পলিমার উপাদানের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ফলে রাবার অংশ আগের মতো সহজে বাঁকতে পারে না এবং শক্ত হয়ে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এছাড়া কিছু উপাদানের টেনসাইল স্ট্রেংথ বা টান সহ্য করার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। এর ফলে যন্ত্রাংশ যান্ত্রিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা হারায়। আবার কিছু প্লাস্টিক উপাদান E20 থেকে বেশি পরিমাণে জ্বালানি শোষণ করে ফুলে যেতে পারে। এতে আকার পরিবর্তন হয়ে সিলিংয়ের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
গাড়ির মালিকদের কী করতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, E20 পেট্রোল ব্যবহারের কারণে সব গাড়িতে সমস্যা হবে এমন নয়। আধুনিক BS-VI গাড়িগুলির বেশিরভাগই E20 উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। তবে পুরনো BS-III গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ফুয়েল লিকেজ, গন্ধ, ইঞ্জিন পারফরম্যান্সে পরিবর্তন বা ফুয়েল সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে রাবার হোস, সিল, গ্যাসকেট বা সংশ্লিষ্ট অংশ পরীক্ষা করা উচিত।
ভারতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের পরিমাণ আগামী দিনে আরও বাড়বে। ফলে পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু ছোটখাটো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়তে পারে। তবে নিয়মিত পরীক্ষা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বদল করলে বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
















