আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৩ সালের ২৬ জুন থেকে কংগ্রেস ২৪ আকবর রোডের তাদের প্রাক্তন সদর দপ্তরটি "বেদখলে" করে রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার ওই বাংলোর জন্য কোনও ভাড়া পায়নি। সম্প্রতি 'ইন্ডিয়া টুডে'-র হাতে আসা একটি আরটিআই বা তথ্য জানার অধিকার আইনের জবাবে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার আরও জানিয়েছে যে, কংগ্রেসের বকেয়া অর্থের বিষয়টি "পর্যালোচনাধীন এবং তা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।"

কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্থ 'ডাইরেক্টরেট অফ এস্টেটস'-এর দেওয়া ওই আরটিআই জবাবে বলা হয়েছে, লুটিয়েন্স দিল্লির ২৪ আকবর রোডের বাংলোটি ১৯৯২ সালের ৭ আগস্ট কংগ্রেস পার্টিকে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৬ জুন থেকে সেই বরাদ্দ বাতিল করা হয়। সেই থেকেই ওই বাংলোটি কংগ্রেস বেআইনিভাবে দখলে করে রয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে কোনও ভাড়া মেলেনি:
আরটিআই আবেদনের জবাবে 'ডাইরেক্টরেট অফ এস্টেটস' জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ২৬ জুন থেকে ২৪ আকবর রোডের জন্য কোনও ভাড়া পাওয়া যায়নি। তারা আরও জানায় যে, কংগ্রেসের বকেয়া অর্থের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। অর্থাৎ, দলটির কাছ থেকে কত অর্থ আদায়যোগ্য, সরকার তা এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি।

কংগ্রেসকে বাংলোটি খালি করার নির্দেশ দিয়ে সরকার কোনও নোটিশ জারি করে থাকলে তার প্রতিলিপিও চেয়েছিলেন আরটিআই আবেদনকারী। ডাইরেক্টরেট সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করে জানায় যে, এ ধরনের নথিপত্র কোনও সংকলিত আকারে রাখা হয় না এবং তা সংকলন করতে গেলে আরটিআই আইনের ৭(৯) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।

এই সাম্প্রতিক তথ্যটি ২০১৮ সালে 'ইন্ডিয়া টুডে' প্রাপ্ত আরেকটি আরটিআই জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ। সেই জবাবে 'ডাইরেক্টরেট অফ এস্টেটস' জানিয়েছিল যে, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২৪ আকবর রোডের লাইসেন্স ফি সংশোধন করে মাসিক ৩,৯২০ টাকা করা হয়েছে। সেই জবাবে কংগ্রেসকে পাঠানো ২০১৩ সালের বরাদ্দ বাতিলের চিঠিটিও সংযুক্ত ছিল এবং উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বাংলোটি নিজেদের দখলে রাখার বিষয়ে কংগ্রেসের অনুরোধ এবং সাধারণ লাইসেন্স ফি ধার্য করার বিষয়টি তখন বিবেচনাধীন ছিল। 

বিজেপির বকেয়া পাওনাও পর্যালোচনার অধীনে
সাম্প্রতিক আরটিআই-এর মাধ্যমে 'লুটিয়েন্স দিল্লি'-র আরেকটি ঠিকানা- ১১, অশোক রোড সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এটি ছিল কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রাক্তন সদর দপ্তর। ডিরেক্টরেট অফ এস্টেটস নিশ্চিত করেছে যে, ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ এই বাংলোটি বিজেপিকে বরাদ্দ করা হয়েছিল।

এছাড়াও জানান হয়েছে যে, সম্পত্তিটি বর্তমানে লোকসভার সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আবাসন তালিকার (লোকসভা মেম্বারস পুল) অন্তর্ভুক্ত। ভাড়া আদায় এবং ভাড়া প্রদানকারী সংস্থা সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে করা আবেদনটি পরবর্তীতে লোকসভা সচিবালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জবাবে আরও বলা হয়েছে যে, সরকারের কাছে বিজেপির কোনও বকেয়া পাওনা থাকলে তা বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

২০১৯ সালে 'ইন্ডিয়া টুডে'-র হাতে আসা একটি আরটিআই-এর জবাবে বলা হয়েছিল যে, ১১, অশোক রোডটি তখনও বিজেপির দখলে ছিল এবং সেখানে দলের কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছিল। ২০১৮ সালে দাখিল করা একটি আরটিআই আবেদনের জবাবে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ওই বাংলোর জন্য নির্ধারিত লাইসেন্স ফি সংশোধন করে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে মাসিক ৩,৯২০ টাকা করা হয়েছিল।