আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জেলার পিম্পরি চিঞ্চওয়াড়েতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভারী বৃষ্টির জেরে একটি বিশাল আবর্জনার পাহাড় ধসে পড়ে। যার ফলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে একটি তিনতলা বাড়ি। ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে অন্তত ১৫ জন কর্মী আটকে পড়েছেন বলে খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই অকুস্থলে উপস্থিত হয়েছে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং এনডিআরএফ-এর টিম। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে উদ্ধারকাজ।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পিম্পরি চিঞ্চওয়াড়ের মোশি অঞ্চলে। ভেঙে পড়া তিনতলা বাড়িটিতে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ হত। সেটি স্থানীয় পুরসভার অধীনে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হত।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছে। টানা এই ভারী বৃষ্টির কারণেই এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ঘটেছে। পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পুরসভার কমিশনার বিজয় সূর্যবংশী সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, "দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্যের একটি পাহাড়প্রমাণ স্তূপের ঠিক পাশেই প্রশাসনিক ভবনটি অবস্থিত ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের কারণে আবর্জনার ওই বিশাল স্তূপটি ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যায়। তারপরই আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভবনটির ওপর ভেঙে পড়ে ওই স্তূপ।"
দুর্ঘটনার সময় ওই বেসরকারি সংস্থার বেশ কিছুজন কর্মী অফিসের ভেতরেই কাজ করছিলেন। আবর্জনাস্তূপের ধাক্কায় এক মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ভেঙে পড়ার সময় তাঁরা ভেতরেই আটকা পড়ে যান।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ ও আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। এর জন্য উদ্ধারকারী দল সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের কাজ করছে। দুর্ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই মজুত করা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও। তবে এই বৃষ্টির মধ্যে আবর্জনা স্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, দু'দিন আগেই বৃষ্টির প্রকোপে মুম্বই-পুনে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে হয় ভূমিধস।ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। যার জেরে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়। মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে ও মহাসড়ক-দু'টিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের এই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত বিঘ্নিত হয়ে পড়ে। যাত্রীরাও দুর্ভোগের মুখে পড়েন। অতিবৃষ্টির জেরে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটে। যার ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫। তবে সেই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ওই দিন অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়। ৯টি ট্রেনের গতিপথও পরিবর্তন করা হয়।















