আজকাল ওয়েবডেস্ক: হিমাচল প্রদেশের নৈসর্গিক পাহাড় ও উপত্যকার আড়ালে এক নিঃশব্দ মহামারীর রূপ নিয়েছে 'চিট্টা'— এক ধরনের ভেজাল ও মারাত্মক ক্ষতিকারক সিন্থেটিক হেরোইন। আগে হিমাচল মূলত চরস বা গাঁজার মতো প্রথাগত মাদকের জন্য পরিচিত থাকলেও, গত কয়েক বছরে সেখানে এই কৃত্রিম মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এই মাদক অত্যন্ত আসক্তিপূর্ণ হওয়ায় মাত্র কয়েকবার ব্যবহারের পরেই একজন মানুষ সম্পূর্ণভাবে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। মাদক পাচারকারীরা হিমাচলের পাহাড়ি জনপদ ও যুবসমাজকে এই মরণনেশার জালে জড়াতে অত্যন্ত চতুর ও গোপনীয় পদ্ধতি অবলম্বন করছে। তারা পাচারের জন্য ড্রেনপাইপ, জল নিকাশীর পাইপলাইন এবং জনহীন পাহাড়ি পথগুলোকে বেছে নিচ্ছে। অত্যন্ত গোপনে, এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে এই বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের শিরায় শিরায়।
সরকারি সমীক্ষা ও বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, হিমাচল প্রদেশের প্রায় ২৭% যুবপ্রজন্ম কোনও না কোনওভাবে মাদকাসক্তির শিকার, যার মধ্যে একটা বড় অংশই এখন 'চিট্টা'র গ্রাসে চলে গেছে। পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর ও চণ্ডীগড়ের সীমানা লাগোয়া হওয়ায় খুব সহজেই গোপন করিডোর ব্যবহার করে হিমাচলের আনাচে-কানাচে পৌঁছে যাচ্ছে এই সিন্থেটিক হেরোইন। এমনকি কুলু, মানালি, কাসৌল বা শিমলার মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কিছু ক্যাফে ও গোপন আস্তানা এখন মাদক কেনাবেচার ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে, যা রাজ্যের সামাজিক ভারসাম্যকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে হিমাচল প্রদেশ সরকার ও রাজ্য পুলিশ বর্তমানে এই মরণনেশার বিরুদ্ধে অলআউট লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে। ড্রাগ মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি আসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এই লড়াইয়ে সাফল্য পেতে প্রশাসন সাধারণ মানুষকেও শামিল করছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের 'চোখ ও কান' হয়ে এই গোপন নেটওয়ার্ক এবং ড্রেনপাইপের মাধ্যমে চলা মাদক পাচারের রমরমা কারবার সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিতে সাহায্য করতে পারেন।















