'আমি গরু খাওয়া হিন্দু', পরকীয়া থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের সঙ্গে যোগাযোগ, কে এই বিতর্কিত বলি অভিনেতা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৮ জুলাই ২০২৬ ১৮ : ২৬
শেয়ার করুন
1
13
পাঁচ দশকের সফল কেরিয়ার, ববি, চাঁদনি, অগ্নিপথ-এর মতো একাধিক হিট ছবি তাঁর ঝুলিতে, তিনি ঋষি কাপুর৷ অভিনয়ের পাশাপাশি মনের কথা অনায়াসে বলে দেওয়ার জন্যও জনপ্রিয় ঋষি কাপুর৷
2
13
বলিউডে স্পষ্টভাষী তারকাদের তালিকা তৈরি হলে ঋষি কাপুরের নাম প্রথম সারিতেই থাকবে। নিজের আত্মজীবনী 'খুল্লম খুল্লা'-তে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে বলিউডের অন্দরমহলের নানা অজানা ঘটনা অকপটে তুলে ধরেছিলেন তিনি।
3
13
২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রে যখন গোমাংস নিষিদ্ধ হয় তখন ঋষি কাপুর এক্স হ্যান্ডলে নিজেকে 'গুরু-খাওয়া হিন্দু' বলে উল্লেখ করেছিলেন। ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে খাবার খাওয়ার কোনও বিরোধ নেই বলেই তিনি মনে করতেন। এই মন্তব্য ঘিরে সে সময় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল৷ কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি অভিনেতা।
4
13
শুধু তাই নয়, আত্মজীবনীতে বাবা রাজ কাপুরের পরকীয়া নিয়েও খোলাখুলি নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন ঋষি কাপুর৷ তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ কাপুরের বিবাহ বহির্ভূত একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এমনকি নার্গিস, বৈজয়ন্তীমালার নামও উল্লেখ করেছেন ঋষি কাপুর৷
5
13
বাবার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে তাঁর মা কৃষ্ণা রাজ কাপুর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন৷ এবং পরিবারকেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বলেও তিনি লেখেন। নিজের পরিবারের এই অধ্যায় লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যে তুলে ধরার সাহস দেখিয়েছিলেন ঋষি।
6
13
সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছিল দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ঋষি কাপুরের সাক্ষাতের ঘটনা। 'খুল্লম খুল্লা'-তে ঋষি জানান, ১৯৮৮ সালে একটি অনুষ্ঠানের জন্য দুবাইতএ গিয়েছিলেন৷ তখন প্রথমবার দাউদের আমন্ত্রণে তাঁর বাড়িতে চা খেতে যান।
7
13
১৯৯৩ সালে মুম্বই বিস্ফোরণ হয়৷ পরে আরও একবার দুবাইয়ে একটি জুতোর দোকানে দাউদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ঋষির দাবি, দাউদ তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত সৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন এবং কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে জানাতেও বলেছিলেন।
8
13
তবে ১৯৯৩ সালের বিস্ফোরণের পর দাউদ ইব্রাহিমের তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখেননি অভিনেতা ঋষি কাপুর৷
9
13
নীতু কাপুরের সঙ্গে বিবাহিত জীবন নিয়েও ঋষি কাপুর বলেছিলেন, তিনি পজেসিভ হাসব্যান্ড৷ বিবাহিত জীবনে তাঁর একাধিক ভুলের কথাও আত্মজীবনীতে স্বীকার করেছিলেন ঋষি কাপুর৷
10
13
তিনি মদ্যপানে আসক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন৷ পাশাপাশি 'কার্জ' সিনেমার ব্যর্থতা তাঁকে মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন ঋষি৷
11
13
ঋষি কাপুর বরাবরই বলতেন, জীবনের সত্যিটা লুকিয়ে রাখার কোনও অর্থ নেই। তাই নিজের ভুল, বিতর্ক, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা জীবনের অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা—সবই তিনি নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছিলেন।
12
13
তাঁর এই অকপট স্বভাবই একদিকে যেমন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে তাঁকে বলিউডের অন্যতম সৎ ও নির্ভীক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
13
13
২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল মারা যান ঋষি কাপুর৷ ৬৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন অভিনেতা৷ দু'বছর ধরে লিউকোমিয়ায় ভুগছিলেন অভিনেতা৷ মৃত্যুর ৬ বছর পরেও তাঁর আত্মজীবনী বলিউডের অন্যতম চর্চিত বই৷