আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারে বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। বাঁকিপুরের এই আসন থেকে বিজেপি শিবিরের হয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন অভিষেক কুমার। উপনির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের ফলে বাঁকিপুর কেন্দ্রের লড়াই এবার ত্রিমুখী আকার নিয়েছি। এই কেন্দ্রে বিজেপির অভিষেকের মুখোমুখি আর এক হেভিওয়েট আরজেডি নেত্রী রেখা গুপ্তা। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক উপদেষ্টা তথা জনসুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। যিনি নিজেও এই প্রথমবার সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

মঙ্গলবার বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সদর দফতর ইন-চার্জ অরুণ সিং অভিষেক কুমারের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। নির্বাচনী টিকিট পেয়ে অভিষেক জানান, দলের এই সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে একইসঙ্গে অত্যন্ত সম্মানজনক এবং দায়িত্বের। প্রার্থী ঘোষণার পরই নির্বাচনী কাজে নেমে পড়েছেন তিনি। অভিষেক ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পৌঁছে গিয়েছেন এলাকার প্রবীণ নেতা এবং সমর্থকদের কাছে। বাঁকিপুরের সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও আশীর্বাদ নিচ্ছেন।

 

রাজনৈতিক মহলে অভিষেক কুমার বিহার বিজেপির প্রথম সারির নেতা নীতিন নবীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত। তিনি বাঁকিপুর অঞ্চলে বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব সামলেছেন।

 

দীর্ঘ ২৬ বছর দল এবং যুব মোর্চার সঙ্গে নানা ভাবে যুক্ত রয়েছেন অভিষেক কুমার। বুথ স্তর থেকে শুরু করে দলের মূল সংগঠনে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরে মন্ডল সম্পাদক, মন্ডল সাধারণ সম্পাদক, মন্ডল সভাপতি, পটনা মহানগর যুব মোর্চার সভাপতি এবং বিহার রাজ্য যুব মোর্চার সহ-সভাপতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ সামলেছেন অভিষেক।

 

বিজেপি নেতৃত্বের কাছে তিনি একজন 'সংগঠন-বান্ধব' নেতা। যাঁর বুথ স্তরের ম্যানেজমেন্ট, সদস্য সংগ্রহ অভিযান এবং জনসংযোগের কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া, যেহেতু বাঁকিপুর কেন্দ্রে কায়স্থ সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই তাঁদের প্রতিনিধি হওয়াটাও অভিষেকের ক্ষেত্রে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।

 

বিজেপি নেতা নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর বাঁকিপুর বিধানসভার আসনটি ফাঁকা হয়। পাটনা শহরের এই নগর কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। ফলে এই উপনির্বাচন বিহারের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আসনটি ধরে রাখতে বিজেপি সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, আগামী ৩০ জুলাই বাঁকিপুর আসনের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের আরও দু'টি আসনে উপনির্বাচন হবে। ভোট গণনা এবং ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে ৩ আগস্ট।