আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির শাহদারা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে এক বৃদ্ধ দম্পতির দেহ উদ্ধার। ঘটনা ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। শনিবার ভোরে ওই দম্পতিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁদের খুন করা হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ। দম্পতির ছেলে পুলিশকে ফোন করে জানান, তাঁর বাবা (৭৫) ও মা (৬৫) অচেতন অবস্থায় ঘরে পড়ে রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, বাড়ির তিনতলায় দুটি আলাদা ঘরে দম্পতির দেহ পড়ে রয়েছে। মৃত বৃদ্ধ এক জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মুখে আঘাতের চিহ্ন মেলায় পুলিশের সন্দেহ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক দল ও অপরাধ দমন শাখা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কী কারণে এই মৃত্যু এবং আঘাতের প্রকৃতি ঠিক কী, তা জানতে দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি নিছক ডাকাতি নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ির লোক ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফোন কল রেকর্ডও পরীক্ষা করছে পুলিশ।

অন্যদিকে, কেরলের কান্নুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। একই পরিবারের চার জন সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। মৃতেরা হলেন ৩৬ বছর বয়সি কালাধরন, তাঁর মা ঊষা (৫৬) এবং কালাধরনের দুই সন্তান- ছয় বছরের হিমা ও দুই বছরের কান্নান।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে খুনের পর মা ও ছেলে নিজেরাও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে পরিবারের ভিতরের দ্বন্দ্ব। পুলিশ জানিয়েছে, কালাধরনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর আইনি লড়াই চলছিল। সম্প্রতি আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, সন্তানদের মায়ের হাতে তুলে দিতে হবে। এই নির্দেশের পরেই স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

মৃত ঊষার স্বামী তথা পেশায় অটোচালক উন্নিকৃষ্ণন জানান, সোমবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি বারান্দায় একটি সুইসাইড নোট পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত সেটি নিয়ে তিনি থানায় যান। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহগুলি উদ্ধার করে।

জানা গিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবারই শিশুদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। সেই মতো পুলিশও আগেভাগে উন্নিকৃষ্ণনকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিল। কান্নুর গ্রামীণ পুলিশের সুপার অনুজ পালিওয়ালের নেতৃত্বে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনায় সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ৷