সারা দেশ রং খেলায় মাতলেও ভারতের এই ৭ জায়গায় হোলি নিষিদ্ধ! কেন জানেন?
৩ মার্চ ২০২৬ ২১ : ০৭
- 1
- 15
মঙ্গলবার ভারতের অধিকাংশ শহর যখন গোলাপি-সবুজ-হলুদ-নীল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে, তখন কোথাও কোথাও দৃশ্যটা একেবারে উল্টো। কিচু কিছু জায়গায় ওঠে না আবিরের ঝড়, নেই হোলিকার আগুন, নেই ‘বুরা না মানো’ হুল্লোড়। বদলে রয়েছে নীরবতা, সংযম, কিংবা একেবারেই অন্য রকম উৎসবের ছন্দ। দেশের বৈচিত্র্য শুধু রঙের বিস্ফোরণে নয়, কখনও কখনও তার অনুপস্থিতিতেও ধরা পড়ে। ভারতের এমনই সাতটি জায়গার হদিস দেওয়া হল যেখানে হোলি খেলা হয় না। আর কেন হয় না -সেসব অদ্ভুত, ছমছমে কারণও বলা হল।
- 2
- 15
১.রামসন গ্রাম (গুজরাট): গুজরাটের বানসকাঁঠার এই গ্রামে ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হোলিকার আগুন জ্বলে না। স্থানীয় জনশ্রুতি বলছে, একবার কয়েকজন সাধু এই গ্রামে নাকি এসেছিলেন। সেই সময়ে এখানকার রাজা তাঁদের অপমান করেছিলেন বলে কথিত আছে। তখন সাধুরা নাকি অভিশাপ দিয়েছিলেন, এই গ্রামে আর কখনও হোলি পালিত হবে না!
- 3
- 15
কেউ অভিশাপে বিশ্বাস করুন বা না করুন, গ্রামবাসীরা আজও নিয়ম ভাঙেননি। প্রবীণরা বলেন, হোলি উৎসব পালন করলে নাকি দারুণ অমঙ্গল হবে এই গ্রামের। ফলে চারপাশে রঙের উল্লাস চললেও রামসানে থাকে নীরবতা। এক অদৃশ্য সামাজিক চুক্তি আজও অটুট।
- 4
- 15
২. দুর্গাপুর গ্রাম (ঝাড়খণ্ড): ঝাড়খণ্ডের বোকারোর দুর্গাপুরে হোলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শোকের স্মৃতি। প্রায় ১০০ বছর আগে এই হোলির দিনই নাকি সেখানকার রাজপুত্রের আকস্মিক মৃত্যু হয়। শোকে ভেঙে পড়েন রাজাও। মৃত্যুর আগে তিনি ঘোষণা করেন, গ্রামে আর কখনও হোলি উদ্যাপন করা হবে না। সময় পেরিয়েছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলায়নি। আশপাশের এলাকা রঙে মেতে উঠলেও দুর্গাপুর গ্রামের সীমানার ভেতর দিনটি কাটে নিঃশব্দে। কেউ চাইলে বাইরে গিয়ে উৎসবে যোগ দেন, কিন্তু গ্রাম নিজে তার সংযম বজায় রাখে।
- 5
- 15
৩. ক্বিলি ও কুরঝান গ্রাম (উত্তরাখণ্ড): উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি গ্রাম ক্বিলি ও কুরঝানে হোলি একেবারেই নিষিদ্ধ নয়। তবে তা হয় অত্যন্ত সংযতভাবে। সেখানকার স্থানীয়দের বিশ্বাস, অধিষ্ঠাত্রী দেবী ত্রিপুরা সুন্দরী উচ্চস্বরে, উচ্ছৃঙ্খল উৎসব পছন্দ করেন না। অতীতে অতিরিক্ত উল্লাসের পর কিছু অমঙ্গল ঘটেছিল, এমন ধারণা থেকেই এই কড়া সতর্কতা।
- 6
- 15
তাই এখানে নেই উচ্চস্বরে গান, নেই বেপরোয়া রঙ খেলা। কুমাউনি হোলির সুর যখন অন্যত্র চড়া তালে বাজে, এই গ্রাম দু’টি তখন নীচু স্বরে এই উৎসবের দিনটি কাটায়—পাহাড়ি নদীর স্থির স্রোতের মতোই শান্ত।
- 7
- 15
৪. পুদুচেরি (পুরনো ফরাসি ও তামিল পাড়া): পুদুচেরির ‘হোয়াইট টাউন’-এ হোলির দিন হাঁটলেও বোঝা কঠিন যে দেশের অন্যত্র রঙের উল্লাস চলছে। এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বিবর্তন হয়েছে দ্রাবিড়ের মন্দির-সংস্কৃতি ও ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রভাবের মিশেলে। রঙ ছোড়ার বসন্ত-উৎসব এখানে কখনও মূলধারায় জায়গা করে নেয়নি।
- 8
- 15
আজ কিছু রিসর্ট বা নতুন আবাসনে ছোটখাটো হোলি পার্টির আয়োজন হয় ঠিকই, কিন্তু পুরনো তামিল ও ফরাসি পাড়ায় দিনটি প্রায় সাধারণ দিনের মতোই কেটে যায়।
- 9
- 15
৫. পুলিকাট হ্রদ সংলগ্ন অঞ্চল তামিলনাড়ু-আন্ধ্র সীমান্তের পুলিকাট হ্রদ ঘিরে থাকা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের উৎসবের ক্যালেন্ডার আলাদা ছন্দে চলে। এখানে ‘মাসি মাগম’ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দিরকেন্দ্রিক শোভাযাত্রা ও সমুদ্রে পবিত্র স্নানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই উৎসব। এই পার্বণের সময়টা বেশিরভাগ সময় হোলির কাছাকাছি পড়লেও, চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—এটি ভক্তিমূলক, খেলাধুলোর নয়।
- 10
- 15
হোলি এখানে কখনও শিকড় গাঁথেনি। কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই, নাটকীয় গল্পও নয়। স্রেফ সাংস্কৃতিক ভিন্নতা।
- 11
- 15
৬. লক্ষদ্বীপ লক্ষদ্বীপে হোলি না হওয়ার কারণটি ধর্মীয় ও জনসংখ্যাগত। এই দ্বীপপুঞ্জে মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ, ফলে সামাজিক বর্ষপঞ্জি গড়ে উঠেছে ঈদ সহ মুসলিম ধর্মের উৎসবকে কেন্দ্র করে। তাই হোলি এখানে ধর্মীয় গুরুত্ব পায় না, তাই কখনও সামষ্টিক উৎসব হয়ে ওঠেনি।
- 12
- 15
নারকেলবন, প্রবালদ্বীপ আর জুমার নামাজ—এই ছন্দেই চলে লক্ষদ্বীপের জীবন।
- 13
- 15
৭. আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবরের আদিবাসী জনগোষ্ঠী—যেমন জারোয়া, অঞ্জে এবং সেন্টিনিলিজ। এইসব আদিম জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ঐতিহ্য ও আচার অনুসরণ করে, যা দেশের মূল ভূখণ্ডের এই হোলি উৎসবের বহু আগের। আন্দামান ও নিকোবরের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উৎসব, ঋতুচক্র ও বিশ্বাসব্যবস্থা একপ্রকার আলাদা জগৎ।
- 14
- 15
আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারে অবশ্য হোলির রঙ দেখা যায়, কিন্তু আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সেসবের প্রশ্নই নেই। এটি কিন্তু কোনও ধরনের প্রত্যাখ্যান নয়, বরং বলা যেতে পারে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতিফলন।
- 15
- 15
