আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি শনিবার একটি সতর্কতা জারি করেছে। জানানো হয়েছে যে, খালিস্তানি গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি নয়াদিল্লি ও দেশের অন্যান্য বেশ কয়েকটি শহরে হামলা চালানোর সম্ভাব্য চেষ্টা করতে পারে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তাদের প্রতিবেদবে জানিয়েছে, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) সতর্ক করেছে যে পাঞ্জাবের গ্যাংস্টাররা ‘বিদেশ থেকে পরিচালিত খালিস্তানি এবং উগ্রপন্থী চক্রের কর্মী হিসেবে কাজ করছে’। দিল্লি জুড়ে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই জঙ্গিরা হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান জুড়ে সক্রিয় রয়েছে। ধীরে ধীরে খালিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করছে। ২৬ জানুয়ারির প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। দিল্লির উত্তর জেলা পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থানগুলিতে ধারাবাহিক মহড়া পরিচালনা করেছে। 

জানুয়ারিতে উত্তর দিল্লির সংবেদনশীল স্থানগুলিতে, যেমন লালকেল্লা, আইএসবিটি কাশ্মীর গেট, চাঁদনি চক, খারি বাওলি, সদর বাজার এবং মেট্রো স্টেশন-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চারটি মহড়া অনুশীলন পরিচালিত হয়েছিল। এই মহড়াগুলির উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঘটনার সময় জনসাধারণ ও সংস্থাগুলিকে সতর্ক থাকার বিষয়ে সচেতন করা।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কর্তব্য পথে অন্তত ৩০টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হবে, যা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উন্নয়নমূলক অর্জনগুলোর এক প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কোস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত সফরে আসবেন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তাঁরা ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উভয় নেতা ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন, যা হবে প্রথমবার যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্মানিত অতিথি হিসেবে এক সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এই পদক্ষেপটি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়াও, কোস্টা এবং ভন ডের লেয়েন ২৭ জানুয়ারি ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। এই সফরকালে তাঁরা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সীমিত পরিসরে ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ে আলোচনা করবেন।