আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকাকে লাগাতার ধর্ষণ। ধর্মীয় বক্তার কীর্তি ফাঁস হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহারে। দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের জেরে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ জানিয়েছে তার পরিবার।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের মিথিলাঞ্চলে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, এক নাবালিকাকে লাগাতার যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ধর্মীয় বক্তা শ্রবণ দাস মহারাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাবালিকার মা থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ জানান।
নাবালিকার মা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস করেন শ্রবণ দাস মহারাজ। আধ্যাত্মিক বাণী শুনিয়ে প্রথমে সকলের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন তিনি। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন ওই নাবালিকাকে। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও লাগাতার যৌন হেনস্থা করেন মহারাজ। নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়েও পড়েছিল। কয়েক মাস আগে তাকে গর্ভপাত করানো হয়েছে।
নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার ধর্ষণে অভিযুক্ত শ্রবণ দাস মহারাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দ্বারভাঙার পুলিশ আধিকারিক যগুনাথ রেড্ডি জানিয়েছেন, এসডিপিও রাজীব কুমারের নেতৃত্বে সিট গঠন করা হয়েছিল। বিশেষ তদন্তকারী দল অভিযুক্তকে হাউজিং বোর্ড কলোনি থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। প্রসাদের লোভ দেখিয়ে পরপর দুই নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের বিরুদ্ধে। মন্দিরের গর্ভগৃহে দুই নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছিল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্ত পুরোহিত মহাকাল আশ্রমের একটি শিব মন্দিরে পুজো করতেন। জানা গেছে, গত চার বছর ধরে এই মন্দিরের দেখাশোনা করতেন তিনি। আশ্রমটি এখনও নির্মীয়মাণ। সেই মন্দিরের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল।
তদন্তে জানা গেছে, দুই নাবালিকা সম্পর্কে তুতো বোন। একজনের বয়স ছয়, অন্যজনের পাঁচ। পরিবারের তরফে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে দুই বোন উঠোনে খেলাধুলা করছিল। সেই সময়ে অভিযুক্ত পুরোহিত প্রসাদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মন্দিরে ডেকে নিয়ে যান। পুজোর প্রসাদ খাওয়ার লোভে দুই বোন একসঙ্গে পুরোহিতের সঙ্গেই চলে যায়।
এরপর মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দুই বোনকে একসঙ্গে যৌন হেনস্থা করেন। ধর্ষণ করেন একে একে। রাতেই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে পুরোহিতের কীর্তি ফাঁস করে দুই বোন। পরেরদিন সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পকসো ধারায় পুরোহিতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা জানিয়েছিলেন, এ নিয়ে তৃতীয়বার যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল এই পুরোহিতের বিরুদ্ধে। আগের দু'বার থানায় অভিযোগ জানানো হয়নি।
