আজকাল ওয়েবডেস্ক: বলিউডের সুপারহিট ছবি ‘ধুরন্ধর’–এ খলনায়ক রহমান ডাকু এখন আলোচনার শীর্ষে। কিন্তু পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনে ঠিক একই নামের এক ভয়ঙ্কর অপরাধীর গ্রেপ্তার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল গুজরাটে। সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে ধরা পড়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার আবিদ আলি যাকে রহমান ডাকু নামেই বেশি চেনে পুলিশ ও অপরাধজগৎ। তার অন্য পরিচয় রাজু  ও আব্বাস আলি।

পুলিশ জানিয়েছে, বহু রাজ্যে খোঁজ চলা এই দুষ্কৃতী বড়সড় কোনও অপরাধের পরিকল্পনা করছিল। তবে সেই আগেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে পাকড়াও করে সুরাট পুলিশ। ভোপালের ইরানি ডেরা এলাকা থেকে উঠে আসা এই অপরাধী গোপনে সুরাটে ঢুকেছিল বলে জানা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালান ইন্সপেক্টর জে এন গোস্বামী ও তাঁর দল। কোনও গুলির লড়াই ছাড়াই রহমান ডাকুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রহমান ডাকু ছিল একটি বিশাল সংগঠিত অপরাধচক্রের মাথা। দেশের ১২ থেকে ১৪টি রাজ্যে তার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল। তার অধীনে সক্রিয় ছিল অন্তত ছয়টি আলাদা গ্যাং। ডাকাতি, তোলা আদায়, ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণা থেকে শুরু করে জমি দখল একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল এই চক্র।

এই অপরাধচক্রের দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রহমান ডাকুর ভাই জাকির আলি। পুলিশ জানিয়েছে, কোন রাজ্যে কোন গ্যাং কাজ করবে এবং কার উপর হামলা চালানো হবে এই সব সিদ্ধান্ত নিত রহমান ডাকু নিজেই। তবে সে খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকত। বেশিরভাগ সময় ফোন ও দূত মারফত পুরো অপারেশন চালাত।

তদন্তে উঠে এসেছে, গ্যাংটির কাজকর্ম ছিল অত্যন্ত সংগঠিত ও পরিকল্পিত। বহু ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষদের টার্গেট করা হতো। গ্যাং সদস্যরা নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে গয়না ও নগদ টাকা আদায় করত। কোথাও ভুয়ো চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নামে লুট চালানো হতো। বেশ কয়েকটি ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় রহমান ডাকুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১০টি গুরুতর মামলা নথিভুক্ত ছিল। এখনও ছয়টির বেশি রাজ্যে তাকে ‘ওয়ান্টেড’ হিসেবে খোঁজা হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভোপালের ইরানি ডেরা এলাকায় বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১৫০ জনের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ৪৪ জনকে আটক করা হয়। সেই অভিযানের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় রহমান ডাকু। ভোপাল ছেড়ে মহারাষ্ট্র হয়ে শেষে সে সুরাটে আসে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অপরাধের টাকায় রহমান ডাকু ও তার সঙ্গীরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। দামি গাড়ি, বাইক এমনকি ঘোড়ার মালিক ছিল তারা। চুরির বাইরেও এই গ্যাংয়ের হিংস্রতার নজির রয়েছে। পুলিশের দাবি, এক ভয়াবহ ঘটনায় রহমান ডাকু ও তার ভাই সন্দেহের বশে সাবির আলি নামে এক ব্যক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল। তারা মনে করেছিল, ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে খবর দিয়েছিল।

এ পর্যন্ত এই গ্যাংয়ের একাধিক সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রহমান ডাকুকে জেরা করে তার অপরাধচক্রের আরও বিস্তৃত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। সুরাট পুলিশের সিনিয়র আধিকারিক ভাবেশ রোজিয়া এই গ্রেপ্তারকে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।