আজকাল ওয়েবডেস্ক: ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে বচসা। মদ্যপ এক ব্যক্তির ধাক্কায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান ২০ বছরের এক তরুণী। এই ভয়াবহ ঘটনার পর দীর্ঘ তিন মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন শ্রীকুট্টি নামে ওই তরুণী। সোমবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

পাল্লাডের বাসিন্দা শ্রীকুট্টিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি তাঁর শ্বাসকষ্টও ছিল মারাত্মক। অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছিল। এছাড়াও তাঁর বাঁ কাঁধে গুরুতর চোট ছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিরুবনন্তপুরম সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে কোচিতে অমৃতা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে শ্বাস নেওয়ার জন্য তাঁর গলায় অস্ত্রোপচার (ট্রাকোস্টোমি) করতে হয় এবং নলের মাধ্যমে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।

চিকিৎসকদের যৌথ প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। জানা গিয়েছে, এখন তিনি নিজে খেতে, হাঁটতে এবং কথা বলতে পারছেন। এই ঘটনাকে চিকিৎসকরা 'অলৌকিক' বলেই মনে করছেন।

তবে শ্রীকুট্টির মা প্রিয়দর্শিনী জানিয়েছেন, মেয়েকে পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনও অনেকটা পথ বাকি। তিনি বলেন, "হাসপাতালে আনার সময় ও শুধু একটা চোখ খুলতে পারত, সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিল। এখন ও অন্যের সাহায্য নিয়ে হাঁটতে পারে। তবে কাঁধের অস্ত্রোপচারের জন্য ফের হাসপাতালে আসতে হবে।"

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আদালতে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানাবেন এবং সরকারের কাছেও সাহায্যের আর্জি রাখবেন।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটেছিল কেরল এক্সপ্রেসের একটি অসংরক্ষিত কামরায়। ভারকালার কাছে ট্রেনে মদ্যপ সুরেশ কুমার নামে এক ব্যক্তি দরজা থেকে সরতে রাজি না হওয়ায় শ্রীকুট্টিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।