আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরটিকে এক কথায় চেনানো হয়, ‘ট্র্যাফিক’ শব্দটা দিয়ে, সেই শহরই কারও কাছে হয়ে উঠল এক জীবন্ত পিন্টারেস্ট বোর্ড। নতুন বাসিন্দার একটি পোস্ট ঘিরে এবার আলোচনায় ব্যাঙ্গালুরু। অভিযোগ নয়, বরং শহরের রূপের প্রশংসাই ভাইরাল করে দিল তাঁর লেখা।
সম্প্রতি শহরে উঠে আসা এক তরুণী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “সবাই আমাকে বেঙ্গালুরুর ট্র্যাফিকের কথা বলেছিল, কিন্তু আমি যেদিন এখানে এলাম, সেদিন যে শহরটা একেবারে পিন্টারেস্ট বোর্ড হয়ে উঠবে, সে কথা কেউ বলেনি।” তাঁর পোস্টে ছিল তিনটি ছবি। নীল আকাশ, নরম রোদ, সবুজে ঘেরা রাস্তা আর সারি সারি ফুটে থাকা গোলাপি ফুল। ছবিগুলোতে শহর যেন এক মুড বোর্ডের নান্দনিকতা ছড়িয়ে দিয়েছে। উপমা হিসাবে তিনি পিন্টারেস্টের মুডবোর্ডের প্রসঙ্গ তুলে আনেন।
পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, “বেঙ্গালুরুর ট্র্যাফিক যেমন বাস্তব, তেমনই এর আবহাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” কেউ বা লেখেন, “এটাই বেঙ্গালুরুর সর্বত্তম দিক।” আবার কেউ বলেন, “এটা তো সবে শুরু।” অবশ্য চিরাচরিত ট্র্যাফিক-রসিকতাও বাদ যায়নি। এক ব্যবহারকারী মজা করে লিখেছেন, “অপেক্ষা করো, খুব তাড়াতাড়িই ট্র্যাফিক তোমাকে জীবনের সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবে!” তবে সামগ্রিকভাবে পোস্টটি শহরের সৌন্দর্যকে নতুন চোখে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
উগাদি (বা উগাদী) হলো দক্ষিণ ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ নববর্ষ উৎসব। এই দিনটিকেই তেলুগু ও কন্নড় নববর্ষের সূচনা ধরা হয়। প্রধানত কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, এবং তেলেঙ্গানায় ধুমধাম করে পালিত হয় এই উৎসব। সাধারণত মার্চ বা এপ্রিল মাসে প্রতি বছর সেই উগাদির আগে বেঙ্গালুরুর রাস্তাজুড়ে ফোটে হাজার হাজার পিঙ্ক ট্রাম্পেট গাছ। শহর ঢেকে যায় নরম গোলাপি আভায়। এই রূপান্তর সাময়িক হলেও, এর প্রভাব স্থায়ী। তবে এই সৌন্দর্য কিন্তু হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও পরিবেশ সচেতনতার ইতিহাস।
&t=21s১৯৮০–এর দশকে দ্রুত নগরায়নের ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, বেঙ্গালুরু কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হবে। সেই সময় ভারতীয় বন পরিষেবার কর্মকর্তা এসজি নেগিনহাল, এগিয়ে আসেন এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে। তিনি শুরু করেন ভারতের অন্যতম বৃহৎ নগর পুনর্বনায়ন কর্মসূচি। শহরের জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই ও দৃষ্টিনন্দন প্রজাতি হিসেবে তিনি বেছে নেন তাবেবুইয়া রোজা নামের গাছকে। যা পিঙ্ক ট্রাম্পেট ট্রি নামে বেশি পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে শহরজুড়ে ১৫ লক্ষেরও বেশি গাছ লাগানো হয়। নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সবুজ আন্দোলন আজকের বেঙ্গালুরুকে দিয়েছে তার স্বতন্ত্র পরিচয়।
বেঙ্গালুরুর যানজট নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এই ভাইরাল পোস্ট মনে করিয়ে দিল, শহরের পরিচয় শুধু যানজট নয়। এখানে আছে ঋতুভিত্তিক রূপ, মনোরম আবহাওয়া এবং পরিকল্পিত সবুজায়নের বা সবুজ বিপ্লবের দীর্ঘ ইতিহাস।এই পোস্ট নতুন করে দেখতে শেখায়। ভাবতে শেখায়, কখনও কখনও শহরকে নতুন করে আবিষ্কার করতে হয়। ট্র্যাফিক সিগন্যালের ফাঁকেই।
