আজকাল ওয়েবডেস্ক: হোলি উপলক্ষে মঙ্গলবার ভারতের শেয়ার বাজার বন্ধ থাকছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হোলি উদযাপিত হবে বুধবার। ছুটির দিন নিয়ে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারণ অনেক জায়গায় হোলিকা দহন হয়েছে ২ মার্চ গভীর রাতে এবং হোলি পালিত হবে ৪ মার্চ।

‘National Stock Exchange’ এবং ‘Bombay Stock Exchange’—উভয়ই মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে ইক্যুইটি, ডেরিভেটিভস এবং সিকিউরিটিজ লেন্ডিং অ্যান্ড বরোয়িং (SLB) সেগমেন্টে কোনও লেনদেন হবে না। বুধবার থেকে আবার স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে।

দেশের বৃহত্তম অ-কৃষি পণ্য বাণিজ্য কেন্দ্র ‘Multi Commodity Exchange of India’ (এমসিএক্স) মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে সন্ধ্যার সময় অর্থাৎ বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত চালু থাকবে। অন্যদিকে ‘National Commodity and Derivatives Exchange’ (এনসিডিইএক্স) সারাদিনই বন্ধ থাকবে।

ছুটির দিন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন শেয়ার বাজার অংশগ্রহণকারীরা। শরদ ঝুনঝুনওয়ালা নামে এক ব্যক্তি এক্য হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘উৎসবের জন্য ছুটি দেওয়ার মানে কী, যদি ভুল দিনে দেওয়া হয়? গত বছর দীপাবলি, আর এবার হোলি, দুই বড় উৎসবই ভুল দিনে পড়ল কেন?’ তিনি আরও জানান, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি ৪ মার্চ যাবতীয় লেনদেন বয়কট করবেন।

এদিকে ‘Reserve Bank of India’-এর ছুটির তালিকায় রাজ্যভিত্তিক ছুটির নির্দেশের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ২ মার্চ হোলিকা দহন, ৩ মার্চ হোলি, দোলযাত্রা, ধুলান্ডি বা আটুকাল পোঙ্গাল বিভিন্ন রাজ্যে পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৪ মার্চ কিছু অঞ্চলে হোলির দ্বিতীয় দিন, ধুলেটি বা ইয়াওসাং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে, মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে ছুটি রয়েছে।

ছুটির আগে সপ্তাহের শুরুটা ছিল খুব একটা ভাল যায়নি শেয়ার বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে বিশ্ব বাজারে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। সোমবার বেঞ্চমার্ক সূচকগুলিতে বড় পতন দেখা যায়।

‘Nifty 50’ ৩১২ পয়েন্ট বা ১.২৪ শতাংশ পড়ে ২৪,৮৬৫-এ বন্ধ হয়। অন্যদিকে ‘BSE Sensex’ ১,০৪৮ পয়েন্ট কমে ৮০,২৩৮-এ স্থির হয়। দিনের মধ্যে উভয় সূচকই ২ শতাংশের বেশি পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল।

বৃহত্তর বাজারেও চাপ ছিল। ‘Nifty Midcap 150’ ১.৭ শতাংশ এবং ‘Nifty Small cap 250’ ১.৯ শতাংশ কমে যায়।

শেয়ারভিত্তিক হিসাবে ‘Larsen & Toubro’ এবং ‘Reliance Industries’ নিফটির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে। শতাংশের বিচারে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ‘Inter Globe Aviation’ এবং ‘Larsen & Toubro’।

এনএসই-র ১৫টি খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে ১২টিই লাল চিহ্নে শেষ হয়, যেখানে অটো ও এনার্জি শেয়ারে বেশি চাপ দেখা যায়। তবে প্রতিরক্ষা, ধাতু ও ফার্মা খাত কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।