আজকাল ওয়েবডেস্ক: গাজিয়াবাদে র‍্যাপিডো (Rapido) চালকের হাতে এক তরুণীর হেনস্থার ঘটনা ঘিরে বর্তমানে শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। জনসমক্ষে আসা এই ঘটনায় রাইড-শেয়ারিং অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনুষ্কা নামের ওই তরুণী সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও এবং কিছু চ্যাট স্ক্রিনশট শেয়ার করে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর শেয়ার করা সেই ভিডিও ক্লিপটির শুরুতেই তিনি মজার ছলে লিখেছিলেন, “একটা র‍্যাপিডো বাইক বুক করি, আর কী বা হবে!” কিন্তু পরের মুহূর্তেই তিনি দেখান যে, তাঁর সেই ধারণা কতটা ভুল ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি রাইড শেষ হওয়ার পর। অনুষ্কা অভিযোগ করেছেন, গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কিছু সময় পরেই ওই বাইক চালক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠাতে শুরু করে। স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি শুরুতেই লেখে, “চিনতে পারছ না? এই তো কিছুক্ষণ আগে ড্রপ করে এলাম।” যখন আনুশকা নিশ্চিত হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করেন তিনি র‍্যাপিডো চালক কি না, তখন সে তা স্বীকার করে এবং অশালীনভাবে তরুণীর চেহারার প্রশংসা করতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, চালকটি লেখে যে তাকে সাধারণ পোশাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল। এরপর সে অনুষ্কা বয়স কত, তিনি একা থাকেন কি না—এমন সব ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে শুরু করে এবং পরের দিন বিকেলে দেখা করার প্রস্তাবও দেয়। 

অপরিচিত ওই চালকের দিক থেকে আসা এমন অযাচিত এবং অস্বস্তিকর মেসেজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনুষ্কা এবং দ্রুত সেই নম্বরটি ব্লক করে দেন। এই পুরো ঘটনার ভিডিও এবং স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের কন্টাক্ট ডিটেইলস বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে র‍্যাপিডো কর্তৃপক্ষ। সংস্থার পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং চালকের এই আচরণকে "নীতিবিগর্হিত" ও "সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করা হয়েছে। যদিও সংস্থাটি কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, তবুও এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও কতটা ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষায় সংস্থাগুলো কতটা দায়িত্বশীল, তা নিয়ে এখন সরব নেটিজেনরা।