আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমির দাম নিয়ে বিবাদ চরমে। প্রতিবাদে কাজ হয়নি। তাই রীতিমত ইচ্ছামৃত্যু চেয়ে কৃষক বিদ্যাধর যাদব এবং তাঁর পরিবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বসেছিলেন। যা নিয়ে হইহই কাণ্ড। পুলিশের কানে খবর পৌঁছাতেই জোড়জোড় শুরু। শেষে জোরজবরদস্তি করেই বিদ্যাধরকে খান্ত করা গিয়েছিল। কিন্তু, যেকোনও সময় প্রতিবাদী কৃষকদের মধ্যে কেই ঘটিয়ে ফেলতে পারেন অপ্রীতিকর ঘটনা। এই আশঙ্কায় বহু পুলিশের কর্মীকে মোতায়েন করতে হয়েছিল ঘটনাস্থলের কাছে। যার দরুন পুলিশ বিদ্যাধরকেই দায়ী করেছে। তাঁকেই ৯.৯১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশের নোটিশে স্তম্ভিত বিদ্যাধর। ঘটনা রাজস্থানের ঝুঝুনের।
শ্রী সিমেন্ট রাজস্থানের ঝুনঝুনে কারখানা তৈরি করবে বলে স্থির করে। ফে কৃষকদের থেকে জমি কিনেছে সংস্থাটি। জমির দাম কৃষকদের পছন্দ হয়নি। কিন্তু জমি হাতছাড়া হয়েছে। ন্যায্য মূল্যের জন্য দরবার করেও কাজের কাজ হয়নি। শেষে মৃত্যুর ইচ্ছে পোষণ করেন বিদ্যাধর যাদব ও তাঁর পরিবার। তৈরি হয় অন্তেষ্টিক্রিয়ার মঞ্চও।
এই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। বিদ্যাধরকে উঠিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু ক্ষোবের আগুন তখনও জমিদাতাদের মধ্য়ে ছিল। ফলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেএকজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এবং দু'জন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) সহ ৯৯ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েনের করা হয়। সরকারি যানবাহনের ব্যবহার হয়েছিল। ফলে সরকারি কোষাগারের উপর আর্থিক বোঝা তৈরি হয়। পুলিশ এর দায় বিদ্যাধরের উপর চাপায়।
এরপরই বৃদ্ধ কৃষককে নোটিশ পাঠায় পুলিশ। সেখানে উল্লেখ, বিদ্যাধরকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এসপি অফিসের অ্যাকাউন্টস শাখায় ৯,৯১, ৫৭৭ টাকা জমা করতে হবে। যদি জরিমানার টাকা না দেওয়া হয় তবে নিয়ম অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। নোটিশ বিদ্যাধর যাদব হতবাক।
এই প্রথম রাজস্থান পুলিশ ইচ্ছামৃত্যু বা আত্মহনন প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি মামলায় এমন নোটিশ জারি করেছে। জেলার পুলিশ সুপার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হয়েছে। যা মেনে চলার জন্য ওই কৃষককে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট অর্থ জমা না করা হয় তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
