আজকাল ওয়েবডেস্ক: এনসিপি-র প্রয়াত প্রধান অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার শনিবার বিকেলে মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তিন দিন আগেই বারামতিতে এক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী-সহ মোট পাঁচজন নিহত হন।

৬২ বছর বয়সী সুনেত্রা পাওয়ারকে আজ এর আগে সর্বসম্মতিক্রমে এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। তাঁর নাম প্রস্তাব করেন দলের নেতা ছগন ভুজবল। সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন দিলীপ পাটিল ও আরও অনেক বিধায়ক। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি চিঠি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে পাঠানো হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী সেই চিঠি রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতকে পাঠানিয়ে দেন।

শপথ গ্রহণের পরপরই মহারাষ্ট্রের প্রথম উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী এক্স-বার্তায় লিখেছেন, 'আমি আত্মবিশ্বাসী যে তিনি রাজ্যের মানুষের কল্যাণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করবেন এবং প্রয়াত অজিতদাদা পাওয়ারের স্বপ্ন পূরণ করবেন।'

২০২৩ সালে এনসিপি ভেঙে যাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে দলের প্রতীক নিজের দখলে রাখতে পেরেছিলেন অজিত পাওয়ার। দুর্বল হয়ে পড়েছে শরদ পাওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠী। কিন্তু, কয়েক মাস আগেই ঐক্যবদ্ধ এনসিপি-র চর্চা শুরু হয়। গুঞ্জন ছড়ায় যে, কাকা-ভাইপো-র (শরদ ও অজিত পাওয়ার) ফের এক হবেন। জুড়ে যাবে এনসিপি-র দুই গোষ্ঠী। এর মাঝেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অজিত পাওয়ার। এবার কী হবে? শনিবার বিকেলে সুনেত্রাীর শপথের পরও আলোচনায় সেই এনসিপি-র পুনর্মিলন। 

যদিও এ দিন শরদ পাওয়ারের মন্তব্যে অন্য ইঙ্গিত মিলেছে। শনিবার অজিত পাওয়ারের কাকা বর্ষীয়ান শরদ পাওয়ার সাফ জানান যে, সুনেত্রা পাওয়ারকে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। এরপরই অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

এরপর শরদ পাওয়ার স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলন আলোচনা চললেও কিন্তু তিনি সরাসরি এই আলোচনায় জড়িত নন। শরদ পাওয়ার বলেন, আলোচনাটি অজিত পাওয়ার এবং জয়ন্ত পাটিলের মধ্যে হচ্ছিল।

সুনেত্রা পাওয়ারের রাজনৈতিক জীবন
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত সুনেত্রা পাওয়ার প্রচারের আলো থেকে দূরেই ছিলেন। সেই বছরের লোকসভা নির্বাচনে তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামীর দলের প্রার্থী হিসেবে বারামতি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু মর্যাদার এই লড়াইয়ে সম্পর্কে তাঁর ননদ তথা এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে সুনেত্রা পাওয়ার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

সূত্র জানিয়েছে, বুধবার অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রা পাওয়ারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছিল। অজিত পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র শীর্ষ নেতারা প্রস্তাবিত পুনর্মিলনে আগ্রহী ছিলেন না। কারণ তাঁরা মনে করেছিলেন যে, পুনর্মিলনের ফলে এনসিপি-র অভ্যন্তরে ফের শরদ পাওয়ারের ক্ষমতার আধিপত্যের পুনরুত্থান ঘটবে। এর পরিবর্তে, তারা চেয়েছিলেন সুনেত্রা পাওয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

অজিত পাওয়ার শিবির আশঙ্কা করছিল যে, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর, শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী হয়তো আধিপত্য কায়েমের জন্য জোরালবাবে এনসিপি-র পুনর্মিলনের জন্য চাপ দেবে।  থাকে।

সুনেত্রা পাওয়ারকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে এগিয়ে এসে নেতৃত্বের রাশ হাতে নিতে হবে। রাজ্যের শীর্ষ নেতারা এনসিপি নেতার মৃত্যুতে শোক জানাতে বারামতিতে ছুটে আসার সময়, এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে উদ্ভূত রাজনৈতিক বাস্তবতাগুলো অজিত পাওয়ারের নিকটাত্মীয়দের জানানো হয়েছিল।

গোটা পাওয়ার পরিবার যখন শোকাহত, তখনই সুনেত্রা পাওয়ারকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।