আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে কেরলে বড় অভিযোগ করলেন রাহুল গান্ধী। পিনারাই বিজয়ন-নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট (এলডিএফ) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। দাবি করেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

আলাপ্পুঝায় আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আজ এই মঞ্চে এমন একজন প্রবীণ নেতা উপস্থিত আছেন, যিনি একসময় বামপন্থী শিবিরের অংশ ছিলেন। তাঁর এখানে বসে থাকার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এমন নয় যে, তিনি হঠাৎ করেই তাঁর চিন্তাধারা বা মতাদর্শ পরিবর্তন করে ফেলেছেন। যেসব মানুষ কোনও রাজনৈতিক সংগঠনে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথ থেকে তাঁরা অনেক কিছুই আত্মস্থ করেন।”

রাহুল যোগ করেন, “তিনি আজ এখানে বসে আছেন কারণএলডিএফ-এর অভ্যন্তরে মৌলিক বা কাঠামোগত স্তরে এমন কিছু ঘটেছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে এলডিএফ ছিল আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আমরা ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। বিগত বহু বছর ধরে তারা অন্তত কিছু নির্দিষ্ট আদর্শ বা মূল্যবোধের মাধ্যমে রাজনীতি করতেন। সত্যি বলতে কী, আজকের বামফ্রন্টের মধ্যে 'বামপন্থা'র আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর এই নির্বাচনের পর তো বামফ্রন্টের অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।”

রাহুল গান্ধী পরোক্ষে ইঙ্গিত দেন যে, এলডিএফ-এর বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে বিচলিত, জোটের বর্তমান নীতি ও কাজগুলোতে আর বামপন্থী মূল্যবোধের কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কোনও এক “অদৃশ্য শক্তি” বা “গোপন হাত” আড়াল থেকে এলডিএফ-কে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করছে।

কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “এই অদৃশ্য শক্তিটি মূলত সাম্প্রদায়িক মানসিকতাসম্পন্ন। তারা ভারতের সংবিধানকে স্বীকার করে না এবং তাদের মূল লক্ষ্য হল মানুষকে বিভক্ত করা। মানুষের ওপর আক্রমণ চালানো এবং তাদের অপমানিত করা। কেরলের প্রতিটি মানুষই আজ স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন যে, বিজেপি এবং আরএসএস ও বামফ্রন্ট (বা সিপিআইএম)-এর মধ্যে একটি গোপন আঁতাত বা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।” 

প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজয়নের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর আক্রমণ
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নির্বাচনী জনসভাগুলোতে কেন কখনওই মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণ বা সমালোচনা করেন না। অথচ তিনি প্রতিনিয়ত এবং ধারাবাহিকভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান।

রাহুল বলেন, “আমি বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করি, আমি আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করি। আমার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৬ থেকে ৩৮টি মামলা ঝুলছে। তারা আমার সরকারি বাসভবন কেড়ে নিয়েছে এবং লোকসভার সদস্যপদও বাতিল করে দিয়েছে। আমি বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছি এবং আমাকে টানা ৫৫ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবুও আমি আমার অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসিনি বা পিছু হটিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আমার এবং কংগ্রেস দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ নরেন্দ্র মোদি কেন আপনাদের মুখ্যমন্ত্রীকে (বিজয়নকে) আক্রমণ করেন না?” 

তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর প্রতিটি নির্বাচনী ভাষণে ঈশ্বর, মন্দির এবং ধর্মের প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু যখন তিনি কেরলে আসেন, তখন এ বিষয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেন না। রাহুল জোর দিয়ে বলেন, "মোদি জানেন যে, ভারতে এলডিএফ কখনওই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে না। আর ঠিক এই কারণেই তাঁর লক্ষ্যবস্তু হল ইউডিএফ।"  

১০ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে মোদি ও বিজয়ন এখন "অহংকারী" হয়ে উঠেছেন এবং "ক্ষমতার দম্ভে মত্ত" হয়ে আছেন বলেও অভিযোগ রাহুল গান্ধীর। তাঁর মতে, এর ফলে জনগণের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের ফাটল ধরেছে।

কেরলে আগামী ৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে এলডিএফ এবং কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর মধ্যে তীব্র লড়াই।