আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায়ই শোনা যায় যৌন নির্যাতনের শিকার কোনও শিশু। কখনও পরিবার আবার কখনও স্কুলে। এর জের কাটাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোনও মনস্তত্ত্ববিদের কাছে। তার মানসিক অবস্থা দেখে কাউন্সেলিং করে তিনি তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। এবার যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠল খোদ সেই মনস্তত্ত্ববিদের ওপরে। ঘটনাটি ঘটেছে চেন্নাইয়ের নাগাপট্টিনামে।  

 


অভিযুক্তের নাম এস সত্যপ্রকাশ। ৪৩ বছর বয়সী ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পসকো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি একটি সরকারি হোমের শিশুদের জীবনশৈলী নিয়ে বোঝাতেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। 

 


তাঁকে তামিলনাড়ুর শিশু কল্যাণ ও বিশেষ পরিষেবা অধিদপ্তর নিয়োগ করেছিল শিশুদের যৌন হয়রানির শিকার থেকে বাঁচার পাঠ দিতে। অথচ তিনি দিনের পর দিন শিশুদের যৌন নিপীড়ন করে গিয়েছেন তাদের পাঠ নেবার অছিলায়। জানা গিয়েছে, তিনি ওই হোমে গত তিন বছর ধরে পরামর্শদাতার কাজ করছিলেন। 

 


ওই হোমে থাকা শিশুরা অতীতে যে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছিল সেগুলোই তিনি তাদের কাছে শুনতে চাইতেন নানারকম কায়দায়। নানারকম অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন। এইভাবেই তিনি দিয়ে থাকতেন যৌনতা হেনস্তা থেকে মুক্তির পাঠ। বিষয়টি প্রথমে নজর করে ওই হোমেরই শিশু কল্যাণ কমিটির সদস্য। তিনি হোমের সুপারকে সব ঘটনা খুলে বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার আবেদন জানান। 

 


হোম কর্তৃপক্ষ তখন আলাদা করে শিশুদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর লক্ষ্য রাখেন। তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ এসে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর গ্রেফতার করে অভিযুক্তকে। 

 


একজন মনস্তত্ত্ববিদের এ হেন আচরণে হোমের শিশু কল্যাণ কমিটি আশাহত বলে জানা গিয়েছে। খবর যায় জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিকের দপ্তরে।  তাঁদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে তিন সদস্যের একটি দল হোমের শিশুদের কাউন্সেলিং করবে। একইসঙ্গে এবার থেকে হোমে পুরুষ মনস্তত্ত্ববিদের জায়গায় মহিলা মনস্তত্ত্ববিদ নিয়োগ করা হবে।