আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্ণাটকের এক মন্দিরে ছবি তুলতে গিয়ে মার খেলেন চিত্রগ্রাহক। অভিযোগ, ওই চিত্রগ্রাহক মন্দির চত্বরে জুতো পরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। এতেই স্থানীয় মানুষের বিশ্বাসে আঘাত লাগে। তারপরেই বচসা শুরু হয়, যা পরে মারধরে রূপান্তরিত হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেট্টেডা ভৈরবেশ্বরা মন্দিরে। জায়গাটি খুবই জনপ্রিয়। আশেপাশের সবুজে ছাওয়া প্রকৃতির জন্যই মূলত মানুষ এখানে প্রি-ওয়েডিং বা বিয়ের আগে ছবি তুলতে আসেন। সেরকমই এক হবু দম্পতি কয়েকজন ফটোগ্রাফারকে নিয়ে মন্দির চত্বরে উপস্থিত হন। শুরু হয় ছবি তোলার পর্ব। কাজ ভালই চলছিল। কিন্তু, হঠাৎই কিছু স্থানীয় লোক চিত্রগ্রাহকদের উপরে চড়াও হন। তাঁদের দাবি, জুতো পরে মন্দির চত্বরে ওঠা যায় না। কিন্তু, চিত্রগ্রাহকরা জুতো পরেই মন্দিরে উঠে ছবি তুলছিলেন। শুরু হয় ঝামেলা। উত্তজনা ছড়ায় এলাকায়। একসময়ে চিত্রগ্রাহকদের উপর চড়াও হন এলাকাবাসী। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ভেঙে দেওয়া হয় ক্যামেরা।
হিন্দুরা মন্দিরকে পবিত্র স্থান হিসাবে গন্য করে। সেখানকার পবিত্রতা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে সেজন্য মন্দির চত্বরে তাঁরা জুতো পরেন না। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাও বজায় থাকে। তাঁদের বিশ্বাস জুতো অশুচিতা বহন করে। মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে তাই জুতো আনা উচিৎ বলে মনে করা হয়। তাছাড়া, মন্দিরে জুতো না পরার কারণ হিসাবে আরও একটি মত প্রচলিত আছে। আজ প্লাস্টিকের জুতো তৈরি হলেও আগে জুতো শুধু চামড়ারই হত। সেই চামড়া পশু হত্যার নিদর্শন হিসাবে ধরা হয়। তাই মন্দিরে সেই হত্যালীলার সাক্ষ্য বহন করে ওঠা নিষিদ্ধ হয়। মন্দিরে উপবিষ্ট ভগমানকে পালনকর্তা হিসাবে দেখা হয়। তিনিই স্রষ্টা। তাঁর সৃষ্টি ওই জীবটি, যাঁর চামড়া পায়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই জুতো মন্দির চত্বরে নিষিদ্ধ হয়।
ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্তের পরে সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে।















