আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমাদের ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে বাবারা অনেক সময় চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ বা বাড়ির লোকের অনুরোধকে থোড়াই কেয়ার করেন। বিশেষ করে মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার নেশা ছাড়ানো তো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই অসাধ্য সাধনেই এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর যুবরাজ দুয়া। তাঁর বিশ্বাস ছিল, বাড়ির লোক বা ডাক্তারকে পাত্তা না দিলেও, প্রিয় জননেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি একবার বলেন, তবে তাঁর বাবা চিনি খাওয়ার অভ্যাসটি নিমেষেই ত্যাগ করবেন। যুবরাজের এই মজার কিন্তু আবেগপূর্ণ ভিডিওটি এখন নেটপাড়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
যুবরাজ তাঁর ইনস্টাগ্রাম রিলে একটি বিশেষ আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সেখানে তিনি অত্যন্ত রসিকতা করে বলেন যে, ভারতে ছেলেদের বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করার সুযোগ কোথায়? কারণ ভারতীয় বাবাদের পছন্দের তালিকায় বন্ধুরা থাকেন তিন নম্বরে, পরিবার থাকে দুই নম্বরে আর এক নম্বরে থাকেন স্বয়ং 'মোদিজি'। তাঁর বাবার কাছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কথা যেন এক একটি অলঙ্ঘনীয় 'আদেশ'। তাই যুবরাজের ধারণা ছিল, প্রধানমন্ত্রী যদি নিজে থেকে অনুরোধ করেন, তবেই তাঁর বাবা স্বাস্থ্যের কথা ভেবে চিনি খাওয়া কমাতে রাজি হবেন।
যুবরাজের এই বুদ্ধিমত্তা এবং রসবোধে মুগ্ধ হয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই ভিডিওটি তাঁর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন হালকা মেজাজের বিষয় খুব একটা দেখা যায় না, কিন্তু যুবরাজের আর্জি এড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি। ভিডিওটি রিশেয়ার করে মোদিজি লেখেন, "যুবরাজের অনুরোধে, আমি তাঁর বাবা এবং সেই সঙ্গে বাকি দেশবাসীকেও অনুরোধ করছি—দয়া করে চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমান। সুস্থ থাকুন এবং হাসিখুশি থাকুন।"
শুধু এটুকুই নয়, প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি তাঁর পোস্টে স্থূলতা বা ওবেসিটি এবং অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে শরীরে বাসা বাঁধা নানা রোগব্যাধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেই হবে না, বরং সুস্থ ও চনমনে থাকতে হলে প্রতিদিনের জীবনে যোগব্যায়াম বা ইয়োগাকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই অভাবনীয় সাড়ায় রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন যুবরাজ দুয়া। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন, "পুরো বিষয়টা অবিশ্বাস্য! ভিডিওটা যে এতদূর পৌঁছে যাবে, সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।" নেটনাগরিকরাও এই ঘটনায় দারুণ মজা পেয়েছেন। কেউ মন্তব্য করেছেন, "ছেলের ভিডিও খোদ প্রধানমন্ত্রী শেয়ার করেছেন দেখে বাবা নিশ্চয়ই আজ সবথেকে বেশি গর্বিত," আবার কেউ লিখেছেন, "অবশেষে যুবরাজের আবদারে সরকারি সিলমোহর পড়ল!"
সোশ্যাল মিডিয়ার এই সুন্দর মুহূর্তটি বুঝিয়ে দিল যে, সঠিক পদ্ধতিতে বার্তা পৌঁছাতে পারলে প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ মানুষের ঘরের গল্পের অংশ হয়ে উঠতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, মোদিজির এই আদেশের পর যুবরাজের বাবা এবং দেশের বাকি 'বাবারা' চিনি খাওয়ার লোভ সামলাতে পারেন কি না।
