আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।

তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া থেকে তেল ভারতের তেল আমদানি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে খাড়গে জানান, তিনি একটি অডিও ক্লিপ শুনেছেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, নরেন্দ্র মোদি তাঁকে সম্মান করেন এবং তাঁর সমস্ত কথাও শোনেন।

খাড়গের কথায়, ‘আমি একটি অডিও শুনেছি। সেখানে রাশিয়া থেকে তেল কেনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলছেন তিনি জানেন যে মোদি তাঁকে সম্মান করেন এবং তাঁর কথা শোনেন। এর মানে কী? এর মানে মোদি তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।’

জনপ্রিয় এক বলিউড সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেস সভাপতি। বলিউড ছবি মিস্টার ইন্ডিয়া-র বিখ্যাত সংলাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমার মনে পড়ে যায় ‘মোগ্যাম্বো খুশ হুয়া’।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প যেন বলছেন ‘মোগ্যাম্বো খুশ হুয়া’।’ বিশ্বকে ভয় দেখানোর প্রবণতা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন খাড়গে।

তিনি বলেন, ‘এই মানসিকতার মানুষ যদি গোটা বিশ্বকে ভয় দেখাতে চায়, ভারত কখনও মাথা নত করবে না।’ একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

খাড়গের কটাক্ষ, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন মোদিজি তাঁর সামনে ঝুঁকে পড়ছেন। এটা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। দেশের হয়ে দাঁড়ান। তিনি যা বলছেন, আপনি তাতেই মাথা নেড়ে যাচ্ছেন। দেশ আপনাকে শুধু মাথা নাড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেনি।’

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ইস্যুতে দেশের স্বার্থে আপস করার অভিযোগও তোলেন কংগ্রেস সভাপতি।

প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করে ফের পরোক্ষ ভাবে ভারতকে হুমকি দিতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের উপর তিনি আরও শুল্ক চাপাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন আমি খুশি নই।' তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী 'বন্ধু' মোদির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তারপরই সুর চড়িয়ে বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভাল মানুষ। তবে তিনি জানতেন আমি সন্তুষ্ট নই। আমাকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এবার আমরা খুব দ্রুত ওদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি।"

গত বছর ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়েছিলেন দ্বিগুণ হারে। তিনি ভারতের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য জরিমানা বাবদ অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান।

ফলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫ শতাংশ। এর ফলে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক হুঁশিয়ারি এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সপ্তাহ খানেক আগে তাঁর টেলিফোন বার্তালাপের পর।