আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামান্য বকাঝকা করেছিলেন শিক্ষক। তার জেরে ভরা ক্লাসরুমে চরম হেনস্থার শিকার হলেন তিনি। পড়ুয়াদের সামনেই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। যে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই, শোরগোল গোটা রাজ্যে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণ জেলায়। বাপুলাপাড়ু মণ্ডলের বীরাবল্লি জেলা পরিষদ হাইস্কুলের প্রাঙ্গণে হেনস্থার শিকার হন এক শিক্ষক। স্কুল প্রাঙ্গণে ওই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। যে ঘটনাটি ঘিরে জেলা জুড়েই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন কোনও একটি বিষয়ে ওই পড়ুয়াকে সামান্য বকাঝকা করেছিলেন ওই শিক্ষক। এই বকাঝকাকে কেন্দ্র করেই, সেই মুহূর্তে শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। এই ঝামেলা চলাকালীন শিক্ষককে কষিয়ে থাপ্পড় মারে দশম শ্রেণির ওই ছাত্র। তাঁর বুকেও ঘুষি মারতে দেখা গেছে তাকে। চোখের সামনে শিক্ষকের হেনস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মী ও পড়ুয়ারা।
এই ঘটনার ভিডিওটি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যা দেখে নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজমাধ্যমে। এমনকী ওই এলাকাতেও শোরগোল ছড়িয়েছে। ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ার পরেই ওই পড়ুয়া জানিয়েছে, ওই শিক্ষক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। এমনকী তার মায়ের নাম ধরেও কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তখনই রাগের মাথায় সে মারধর করে। এই মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পুলিশকে এবং জেলা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিককেও বিষয়টি জানান। ওই পড়ুয়াকে থানায় তলব করে পুলিশ। কাউন্সেলিং করে পুলিশ। যেহেতু সে এখনও নাবালক, তাই খানিকক্ষণ জেরার পরেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে শিক্ষা দপ্তর।
গত জানুয়ারি মাসেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। পরীক্ষা চলছিল স্কুলে। তা সত্ত্বেও দেরিতে প্রবেশ পড়ুয়ার। বকাঝকা করে পড়ুয়াকে দেরিতে আসার কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন শিক্ষিকা। তার জেরেই শিক্ষিকাকে কষিয়ে চড় মারে দ্বাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে তার সহপাঠীদের সামনেই। যে ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাটের পঞ্চমহল জেলায়। জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালীন দেরিতে স্কুলে এসেছিল ওই দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। দেরি করে স্কুলে আসা নিয়েই, কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন শিক্ষিকা। এর জেরে সহপাঠীদের সামনেই ওই শিক্ষিকাকে কষিয়ে চড় মারে ওই পড়ুয়া।
এখানেই থেমে ছিল না ঘটনাটি। পরীক্ষা শেষে আবারও স্কুল প্রাঙ্গণে সকলের সামনে শিক্ষিকাকে হুমকি দেয় সে। পরীক্ষার পর বাবা ও আরও কয়েকজন যুবককে নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে ওই পড়ুয়া। শিক্ষিকা একাই থাকতেন বাড়িতে। তাঁকে ক্ষতি করার হুমকি দেন ওই পড়ুয়া ও যুবকদের দল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২৪ জানুয়ারি। শিক্ষিকাকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের চড় মারার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ওই পড়ুয়াকে প্রকাশ্য দিবালোকে প্যারেড করায় পুলিশ। পুলিশ আধিকারিক অঙ্কুর চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে এস জে ডেভ হাইস্কুলে। ৩ ফেব্রুয়ারিতে এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১৮ বছরের পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু শুক্রবার সে জামিন পেয়ে যায়।
ধৃত পড়ুয়ার নাম, মহম্মদ খান আনসারি। ঘটনার দিন দ্বাদশ শ্রেণির একটি পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষায় দেরিতে ঢুকেছিল সে। দেরি করে আসার কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন ওই শিক্ষিকা। তার উত্তরে পড়ুয়া বলে, 'আমাকে বাড়িতে কেউ কখনও প্রশ্ন করেন না, আপনার এত সাহস হল কী করে, আমাকে প্রশ্ন করার?'
এরপরই শিক্ষিকাকে চড় মেরে, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পালিয়ে যায় পড়ুয়া। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিনই ছেলের কীর্তির জন্য ওই শিক্ষিকার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন পড়ুয়ার বাবা।
দিন কয়েক পর ২৭ জানুয়ারি আবারও বাবা, ২০ জন যুবককে নিয়ে পড়ুয়া স্কুলে প্রবেশ করে। সকলের সামনেই শিক্ষিকার ক্ষতি করার হুমকিও দেয় সে। যেহেতু শিক্ষিকা ওই শহরে একা থাকেন, যেকোনও মুহূর্তে তাঁর ক্ষতি করবে বলেও হুমকি দেয়। যদিও অভিযুক্ত পড়ুয়া পুলিশকে জানিয়েছে, ওই শিক্ষিকার কাছে ক্ষমা চাইতেই পরেরদিন স্কুলে গিয়েছিল সে।
















