আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার ভারতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ। জানা গিয়েছে, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি ও বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

এদিন বিশ্বের বর্তমান অবস্থা, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। জানা গিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি করে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতে ক্যাম্পাস খোলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি।

জানা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে। এমনকী, ইউক্রেন এবং গাজা প্রসঙ্গেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্জের এটাই প্রথম এশিয়া সফর। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতের মধ্যে শীর্ষ সম্মেলনের আগে এবং দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই সফরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যে যখন বার্লিন ও নয়াদিল্লি ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়েই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন মার্জ।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জার্মান চ্যান্সেলরকে গুজরাটের আহমেদাবাদে স্বাগত জানিয়েছেন। এরপর মার্জ যাবেন দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে। এদিন ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসবে অংশগ্রহণ করেন মার্জ।

পাশাপাশি, স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত সবরমতী আশ্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এখানেই মহাত্মা গান্ধী দীর্ঘদিন বসবাস করেছিলেন। জার্মান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বার্লিনের দৃষ্টিতে নয়াদিল্লি বর্তমানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলে ধরতেই মার্জের প্রথম এশিয়া সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগও জোরদার হচ্ছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ভারত ও জার্মানির মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাচ্ছে এই সফরে। জার্মান সংস্থা থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছ’টি সাবমেরিন নির্মাণের একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই প্রকল্পে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স যুক্ত থাকতে পারে। মার্জের সঙ্গে রয়েছেন সিমেন্স ও এয়ারবাসের মতো বড় কর্পোরেট সংস্থার শীর্ষকর্তারা।

এক জার্মান সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা।’ জানা গিয়েছে, বর্তমানে চীনে জার্মান পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন শিল্পে চীনা সংস্থার সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়ে জার্মান রপ্তানিকারকরা নতুন বাজারের সন্ধান করছেন।

পাশাপাশি, বেজিংয়ের সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বিরল খনিজ সরবরাহের বিধিনিষেধের কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।

জার্মানির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাণিজ্য সংস্থা জার্মানি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টের ফ্লোরিয়ান ভেনকে বলেন, ‘জার্মান বিদেশি বাণিজ্যের জন্য নতুন বাজার প্রয়োজন। আর ভারত ঠিক সেই জায়গাটাই দখল করে আছে।’ উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত ও জার্মানির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ইউরো।