আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিচয় গোপন করে প্রায় ৩০ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।অভিযোগ উঠল এক পাকিস্তানি মহিলার বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের রামপুরের এই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশ ওই মহিলার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা রুজু করেছে।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মহিলার নাম মাহিরা আখতার ওরফে ফারজানা। কয়েক দশক আগে তিনি ভারত থেকে পাকিস্তানে গিয়ে সেখানকার এক নাগরিককে বিয়ে করেন। সেখানে গিয়ে তিনি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেন। পরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ১৯৮৫ সাল নাগাদ তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে ফের ভারতে ফিরে আসেন। জানা গিয়েছে, দেশে ফিরে এসে আবার রামপুরের এক বাসিন্দাকে বিয়ে করেন তিনি।

অভিযোগ, নিজের পাকিস্তানি পরিচয় লুকিয়ে ভুয়ো নথিপত্র এবং জাল ঠিকানার প্রমাণপত্র দাখিল করে উত্তরপ্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে শিক্ষিকার চাকরি বাগিয়ে নেন মাহিরা। কুমহারিয়া গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছিলেন। এইভাবেই দীর্ঘ দিন ধরে দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে তাঁর আসল পরিচয় এবং নথিপত্রের কারচুপি ধরা পড়ে যায়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মাহিরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রামপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এত দিন ধরে তিনি কীভাবে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে পারলেন। শুধু তাই নয়, এতে আর কেউ তাঁকে সাহায্য করেছিল কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আপাতত এই ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করছে পুলিশ, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তর করা হয়নি।

অন্যদিকে, তেলেঙ্গানায় মাদক পাচার ও নানা বেআইনি কাজে যুক্ত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কড়া করল প্রশাসন। বিপুল খরচ সত্ত্বেও অপরাধী বিদেশিদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জারি রেখেছে রাজ্যের পুলিশ।

সম্প্রতি তেলেঙ্গানা পুলিশের বিশেষ মাদক দমন শাখা ‘ইগল’- এর হাতে ধরা পড়েন নাইজেরীয় তরুণী ভিক্টরি ইতোহান ইয়াসেল। তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি মাদক ও মানব পাচারের মতো অপরাধে যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে জাল পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতে থাকছিলেন তিনি। হায়দরাবাদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে বায়োমেট্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর জালিয়াতি ধরা পড়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৩৭ দিন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সেরে তাঁকে নাইজেরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধুমাত্র এই এক জনকেই ফেরত পাঠাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা।

২০২৫ সাল থেকে ২০২৬, এখনও পর্যন্ত মোট ৪১ জন বিদেশি অপরাধীকে এ ভাবেই ফেরত পাঠিয়েছে ‘ইগল’ ফোর্স। আধিকারিকদের মতে, প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় সরকারের এক লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে, যা রাজকোষের ওপর বড় চাপ। দিল্লি ও গোয়া পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়েও অনেককে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আরেকটি ঘটনায় ওয়ারঙ্গল থেকে আরও তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ হয়ে তেলেঙ্গানায় এসে তাঁরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। এর পাশাপাশি আড়ালে মাদক কারবার চালাচ্ছিলেন। তাঁদের কাছেও জাল নথি পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং মাদকের জাল ছিঁড়ে ফেলতে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ ও ধরপাকড় জারি থাকবে।