আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিষাক্ত পানীয় জল থেকে মৃত্যুমিছিল। অসুস্থ হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। বিজেপি শাসিত এক রাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই প্রশ্নের মুখে। ফের আরও এক বিজেপি শাসিত রাজ্যের স্কুল থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে একের পর এক পড়ুয়া। এবার জন্ডিস আউটব্রেকের খবর খাওয়া গেল ওড়িশায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার খুরদা জেলার গুরুজং-এর জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে। ওই স্কুলেই জন্ডিসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। জানা গিয়েছে, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির অন্তত ৪০ জন পড়ুয়া জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। ধুম জ্বর, শরীর হলদে হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে পড়ুয়াদের।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে কয়েকজন পড়ুয়ার মধ্যে জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তবে বড়দিনের ছুটির পরে পড়ুয়ারা হস্টেলে ফেরার পরেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। কমপক্ষে ৪০ জন পড়ুয়া জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে একজন পড়ুয়া জন্ডিস নিয়ে হস্টেলে ফিরেছিল। তার থেকেই দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জন্ডিসে আক্রান্ত পড়ুয়াদের এবং বাকি পড়ুয়াদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
জন্ডিস আউটব্রেকের খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি স্কুলে পৌঁছয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এবং সেখানকার জল সরবরাহ সংস্থা, ওয়াটকো-র বিশেষ দল। জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে ওড়িশার জনস্বাস্থ্য বিভাগও। অভিভাবকদের অভিযোগ, হস্টেলের জলেও বিষ ছিল। তা খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন পড়ুয়ারা।
যদিও অভিভাবকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল। তিনি জানিয়েছেন, স্কুলের ওভারহেড ও সাবমার্জড ট্যাঙ্কের জল পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সেখানে কোনও দূষণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আরও এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ওই হস্টেলের জল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে মনিটর করা হয়। ক্লোরিনেশনও হচ্ছে। ওই চত্বরের ১২টি জায়গা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
অতি সম্প্রতি বিজেপি শাসিত আরেকটি রাজ্য মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল। এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন আরও ন'হাজারের বেশি মানুষ। অনেকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শতাধিক রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের মধ্যে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও রয়েছে।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।
