আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, 'ইন্ডিয়া' জোটভুক্ত বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে নারী সংরক্ষণের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা তুলে ধরবে। একইসঙ্গে তারা এই অভিযোগও তুলবে যে, "সরকার এই বিলের আড়ালে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে ফেলার চেষ্টা করছে।"
শুক্রবারই আইনসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ (যা ২০২৯ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল) এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আনা সংবিধান সংশোধনী বিলটি নিম্নকক্ষ বা লোকসভায় খারিজ হয়েছে। বিলটির সমর্থনে ২৯৮ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছিলেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২৩০ জন সাংসদ। ভোটদানকারী ৫২৮ জন সদস্যের মধ্যে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিলটির পক্ষে ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল।
বিরোধী দলগুলোর মতে, লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়াটা মোদি সরকারের জন্য স্পষ্টই একটা রাজনৈতিক ধাক্কা।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, সরকারের এই বিলটি ছিল সংবিধানের ওপর একটি আঘাত। সংসদের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি আগেই যেমনটা বলেছিলাম, এটি ছিল সংবিধানের ওপর একটি আঘাত, এবং আমরা সেই আঘাত প্রতিহত করেছি।" তিনি আরও বলেন, "আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে এটি কোনও 'মহিলা বিল' নয়, বরং ভারতের নির্বাচনী কাঠামো বদলে ফেলার অপচেষ্টা মাত্র।"
রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি সত্যিই মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে চান, তবে তাঁর উচিত ২০২৩ সালের আইনটি সামনে নিয়ে আসা এবং আজ থেকেই তা বাস্তবায়ন করা।
পরবর্তীতে 'এক্স' প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে তিনি লেখেন, "সংশোধনী বিলটি খারিজ হয়ে গিয়েছে। সংবিধানকে ভাঙার উদ্দেশ্যে তারা মহিলাদের নাম ব্যবহার করে একটি অসাংবিধানিক ফন্দি এঁটেছিল।" তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "ভারত তা দেখেছে। 'ইন্ডিয়া' জোট তা রুখে দিয়েছে। সংবিধানের জয় হোক।"
লোকসভার বিরোধী দলনেতা আরও যোগ করেন, "আমরা নারীদের জন্য সংরক্ষণের পক্ষে, তবে আমরা একটি 'লক্ষ্মণরেখা' (সীমা) টেনে দিয়েছিলাম, যা তারা অতিক্রম করতে পারেনি।" সংবিধান সংশোধন বিলটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার পর এবং ২০২৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনের আগেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের আইনটি ‘কার্যকর’ করার লক্ষ্যে লোকসভার আসনসংখ্যা বর্তমান ৫৪৩টি থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০টি করা হবে। এছাড়া, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর বিধানসভাগুলোতেও আসনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি এই বিলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
















