আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অপারেশন সিঁদুর ছিল প্রচলিত যুদ্ধের ধাঁচে নয়, বরং একধরনের দাবার খেলা, যেখানে প্রতিপক্ষের পরবর্তী চাল অনুমান করা কঠিন ছিল। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারত শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে কৌশলগতভাবে চেকমেট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছে। তিনি সমালোচনা করেন পাকিস্তানের ন্যারেটিভ ম্যানেজমেন্ট কৌশলের, যার মাধ্যমে ইসলামাবাদ নিজেদের পরাজয় ঢাকতে বিজয়ের গল্প সাজাচ্ছে। তাঁর মতে, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফাইভ-স্টার জেনারেল তথা ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করাই পাকিস্তানের সেই প্রচেষ্টার অংশ।

 

পাহালগামে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে শুরু হয় অপারেশন সিঁদুর। সেনাপ্রধান জানান, ২৩ এপ্রিলের উচ্চস্তরের বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন কীভাবে, কোথায় এবং কখন আঘাত হানা হবে তা নির্ধারণ করার জন্য। দ্বিবেদীর মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক স্পষ্টতা ও আত্মবিশ্বাস তিনি প্রথমবার দেখেছেন, যা কৌশলগত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিশেষ সহায়তা করেছে।

 

অপারেশন সিঁদুর নামটি দেশবাসীকে একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই নাম জনমানসে এমন প্রভাব ফেলেছিল যে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলছিলেন কেন অভিযান থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল শুধু একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং জাতীয় মনোবল ও ঐক্যের প্রতীক।

 

অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনা, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী মিলে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত নয়টি নির্দিষ্ট জঙ্গি শিবির ও অবকাঠামোতে নিখুঁত হামলা চালায়। ভারত সরকার এই হামলাকে সীমিত ও পরিমিত পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করে। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও ভারতের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলি সফলভাবে প্রতিহত করে, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান ভারতের উচ্চ-নিখুঁত ও সমন্বিত সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এতে শুধু জঙ্গি অবকাঠামো ধ্বংস হয়নি, বরং সীমান্ত-পার সন্ত্রাসে পাকিস্তানের রাষ্ট্র-সমর্থিত নীতি মোকাবিলায় নতুন করে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই অভিযান ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হয়ে থাকবে।